
নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রশিক্ষণে থাকায় ভূমি সেবা কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। এতে নামজারি, মিসকেসসহ বিভিন্ন ভূমি-সংক্রান্ত কাজে ভোগান্তির অভিযোগ করছেন সেবাপ্রত্যাশীরা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদটি বর্তমানে শূন্য থাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল খালেক পাটোয়ারী অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ভূমি অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। একই সঙ্গে উপজেলা প্রশাসন, রায়গঞ্জ পৌরসভা এবং উপজেলা পরিষদের দায়িত্বও তার ওপর ন্যস্ত রয়েছে। ফলে একাধিক দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে প্রশাসনিক চাপ বেড়েছে।
এদিকে সম্প্রতি ফুয়েল কার্ড কার্যক্রম বাস্তবায়নের দায়িত্ব যুক্ত হওয়ায় ইউএনও’র ব্যস্ততা আরও বেড়েছে। এতে ভূমি সেবা কার্যক্রমে যেমন ধীরগতি তৈরি হয়েছে, তেমনি পৌর এলাকার নাগরিক সেবাও ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ভূমি সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীরা জানান, আগে আবেদন জমা দিলে দ্রুত নিষ্পত্তি পাওয়া যেত। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে ফাইল দীর্ঘদিন আটকে থাকছে এবং একই কাজের জন্য বারবার অফিসে যেতে হচ্ছে।
পৌরসভার এক বাসিন্দা বলেন, “আগে কাজ দ্রুত হতো। এখন ছোটখাটো কাজেও দেরি হচ্ছে। মনে হচ্ছে সবখানেই চাপ বেড়েছে।”
স্থানীয়দের দাবি, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাসুদ রানা ভূমি সেবায় গতি এনেছিলেন। তার তদারকি ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারণে দীর্ঘদিনের জট কমে এসেছিল। তবে বর্তমানে তার অনুপস্থিতিতে সেই গতি কমে গেছে।
এ বিষয়ে ইউএনও মো. আব্দুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, “সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রশিক্ষণে থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের কাজও পরিচালনা করছি। সরকারি বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের চাপ রয়েছে। তবুও সেবাপ্রত্যাশীদের প্রয়োজনীয় সেবা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। বিশেষ করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে অস্থায়ী দায়িত্ব প্রদান বা অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ না হলে সেবাপ্রত্যাশীদের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।
রায়গঞ্জবাসী দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে ভূমি ও পৌরসভার সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।