
রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়নের খৈচালা গ্রামে গভীর রাতে একটি বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে লুটপাট, মারধর এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় পাশের বাড়ি থেকে ডেকে আনা এক নৈশপ্রহরীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। তিনি বর্তমানে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, ভুক্তভোগী পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, খৈচালা গ্রামের ভ্যানচালক ছাইদুল ইসলামের বাড়িতে ৫ থেকে ৬ জন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত প্রবেশ করে। প্রথমে তারা বাড়ির বাইরের বৈদ্যুতিক বাতি নিভিয়ে দেয়। পরে ছাইদুল ইসলামের স্ত্রী দরজা খুললে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে ছাইদুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকে জিম্মি করে বেঁধে ফেলে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, এরপর দুর্বৃত্তরা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার দাবি করে। চাহিদামতো টাকা ও স্বর্ণালংকার না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়। একপর্যায়ে পরিবারের নারী সদস্যদের ধর্ষণ এবং সবাইকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
পরিবারটির দাবি, দুর্বৃত্তরা তাদের দিয়ে পাশের বাড়ির বাসিন্দা ও খৈচালা আদিবাসী উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী মো. আকতার হোসেনকে মোবাইল ফোনে ডেকে আনতে বাধ্য করে। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথা, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর জখম করে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা ধরে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি রেখে নির্যাতন ও লুটপাট চালানোর পর দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত আকতার হোসেনকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নৈশপ্রহরী আকতার হোসেনের বড় ভাই আব্দুস সামাদ হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসাধীন থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম খান বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগী পরিবার একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”