1. thedailydrishyapat@gmail.com : TheDaily Drishyapat : TheDaily Drishyapat
  2. info@pratidinerdrishyapat.com : Pratidiner Drishyapat : Pratidiner Drishyapat
  3. admin@thedailydrishyapat.com : admin :
শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৩২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
জুয়া খেলার সময় হাতেনাতে গ্রেপ্তার ৫ অনলাইন জুয়াড়ি তাড়াশের চরকুশাবাড়ী কমিউনিটি ক্লিনিকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চিকিৎসা বিদ্যালয়ে মদ্যপ অবস্থায় নিজের কক্ষে বসেই মাতলামি করলেন প্রধান শিক্ষক গণতন্ত্রের সংগ্রামে এনটিভির সাহসী ভূমিকার প্রশংসা মির্জা ফখরুলের, ঠাকুরগাঁওয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ব্রহ্মপুত্র কেড়ে নিচ্ছে শেষ আশ্রয়টুকুও প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে উধাও মসজিদের ইমাম হাজরে আসওয়াদ চুম্বনের ক্ষেত্রে যে ভুল থেকে সতর্ক করলেন কাবার ইমাম নাসিরনগরে স্থানীয় এমপির জন্য বরাদ্দকৃত পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন  ডিমলায় ভাগ্নিকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ লম্পট মামার বিরুদ্ধে, এলাকাবাসীর তীব্র ক্ষোভ মেলান্দহে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হাত-পা কামড়ে নির্যাতন অভিযোগ মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে

ব্রহ্মপুত্র কেড়ে নিচ্ছে শেষ আশ্রয়টুকুও

সংবাদ প্রকাশক:
  • Update Time : শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬
  • ৭ Time View

 

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর

 

 

 

চার সন্তানকে পাশে নিয়ে ভাঙা ভিটার ধারে উদাস হয়ে বসে ছিলেন মোছাঃ মিনারা বেগম। মাথার ওপর খোলা আকাশ, পাশে গুছিয়ে রাখা কয়েকটি টিন। চার বছর আগে তিস্তার ভাঙনে হারিয়েছিলেন নিজের ভিটেমাটি। এবার ব্রহ্মপুত্র কেড়ে নিয়েছে শেষ আশ্রয়টুকুও। নীরবতা ভেঙে দীর্ঘশ্বাসের পর বললেন—‘এলাও মাথা গোঁজার ঠাঁই পাইনি।’

 

গাইবান্ধার জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তিস্তার চরে ছিল মোছাঃ মিনারা বেগম (৫৫) ও তাঁর স্বামী মোঃ সাইফুল ইসলামের (৬০) বসতভিটা। তিস্তার ভাঙনে সব হারিয়ে তাঁরা কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের কড়াইবরিশাল চরের একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পে মিনারার বোনের ঘরে আশ্রয় নেন। কিন্তু তিন দিন আগে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে সেই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরটিও নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এর পর থেকে খোলা আকাশের নিচেই দিন কাটছে তাঁদের।

 

কৃষিশ্রমিক মোঃ সাইফুল ইসলাম মৌসুমে মাছ ধরে সংসার চালান। নিজের কোনো জমিজমা বা ঘরবাড়ি নেই। নদীভাঙনের পর থেকে একের পর এক অন্যের আশ্রয়েই কাটছে তাঁদের জীবন।

 

কথা বলতে বলতে চোখ ভিজে আসে মিনারার। তিনি বলেন, এই চরে আসার পর থেকে ভোটার হতে অনেক চেষ্টা করেছেন। গরিব মানুষ, টাকা দিতে পারেননি বলে কাজও হয়নি। গতকাল মঙ্গলবার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেকেই ত্রাণ পেয়েছে, ভোটার আইডি না থাকায় তাঁরা পাননি।

 

আজ বুধবার দুপুরে সরেজমিনে, কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের কড়াইবরিশাল ও শাখাহাতি চরে গিয়ে দেখা যায়, উজানের ঢলে ব্রহ্মপুত্রে তীব্র স্রোত সৃষ্টি হয়েছে। নদী ভাঙতে ভাঙতে পৌঁছে গেছে বিশারপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্প পর্যন্ত। ইতিমধ্যে প্রকল্পসংলগ্ন সাতটি বিদ্যুতের খুঁটি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। গত সাত দিনে কড়াইবরিশাল ও শাখাহাতি চরের অন্তত ৭০টি পরিবার বসতভিটা হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে।

 

একই দুর্দশায় পড়েছেন শাখাহাতি চরের মোঃ আতাউর রহমান (৩৫)। গত রোববার ব্রহ্মপুত্র তাঁর বসতভিটাও গিলে নিয়েছে। এখন ছোট সন্তানকে নিয়ে প্রতিবেশীর বারান্দায় রাত কাটছে তাঁর। তিনি বলেন, ‘চর এলাকায় বাড়ি করতে জমি চুক্তিতে নিতে হয়। এর জন্য প্রায় এক লাখ টাকা লাগে। সেই সামর্থ্য আমার নেই।’

 

কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামের ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বেড়ে জেলার অন্তত ৪০টির বেশি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে চিলমারী ইউনিয়নের শাখাহাতি ও কড়াইবরিশাল চরের ভাঙন সবচেয়ে তীব্র। ঝুঁকিতে রয়েছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইউনিয়নের একমাত্র নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কড়াইবরিশাল বাজার।

 

কুড়িগ্রাম জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিবুল হাসান বলেন, উজানের ঢলে জেলার নদ-নদীতে ৪০টির বেশি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০টি স্থানে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে। তবে শাখাহাতি ও কড়াইবরিশাল চর নদীর মাঝখানে হওয়ায় পাউবোর নীতিমালা অনুযায়ী সেখানে জিও ব্যাগ ফেলা সম্ভব নয়।

 

চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মাহমুদুল হাসান বলেন, গত কয়েক দিনে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের শাখাহাতি, কড়াইবরিশাল ও বিশারচর এলাকার অন্তত ৭০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিলমারী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে জিআরের চাল ও শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। নদীভাঙন রোধে পাউবোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত আছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
প্রতিদিনের দৃশ্যপট ২০২৪
Theme Customized BY Kh Raad (FriliX Group)
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com