1. thedailydrishyapat@gmail.com : TheDaily Drishyapat : TheDaily Drishyapat
  2. info@pratidinerdrishyapat.com : Pratidiner Drishyapat : Pratidiner Drishyapat
  3. admin@thedailydrishyapat.com : admin :
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৫ অপরাহ্ন

বিড়াল নিয়ে বিশ্বজুড়ে যত অদ্ভুত লোকবিশ্বাস ও সংস্কৃতি

সংবাদ প্রকাশক:
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৫ Time View

 

 

 

অনলাইন ডেস্ক 

 

 

শত শত বছর ধরে মানুষের সংস্কৃতি, লোককথা ও বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিড়াল। কোথাও তারা সৌভাগ্যের প্রতীক, আবার কোথাও তাদের সঙ্গে অশুভ শক্তির সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতিতে বিড়ালকে ঘিরে প্রচলিত রয়েছে এমন কিছু কৌতূহলোদ্দীপক বিশ্বাস।

 

 

 

ইতালিতে বিড়ালের হাঁচিকে সৌভাগ্যের লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, বিড়াল একবার হাঁচি দিলে শিগগিরই অর্থ আসতে পারে। বিয়ের দিন কোনো কনের সামনে বিড়াল হাঁচি দিলে সেটিকে সুখী দাম্পত্যের পূর্বাভাস হিসেবেও দেখা হয়। তবে বিড়াল যদি টানা তিনবার হাঁচি দেয়, তাহলে বিষয়টি এতটা আনন্দের নয়। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এতে কারও ঠান্ডা লাগার ইঙ্গিত থাকতে পারে।

 

 

 

দক্ষিণ ইউরোপের কিছু অঞ্চলের লোককথায় বলা হয়, কোনো বিড়াল যদি মৃত ব্যক্তির কবরের ওপর দিয়ে লাফিয়ে যায়, তাহলে সেই ব্যক্তি ভ্যাম্পায়ার হয়ে আবার জীবিত হয়ে উঠতে পারেন। এটি নিছক লোকবিশ্বাস, বাস্তবতার সঙ্গে যার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

 

 

জাপানের পরিচিত সৌভাগ্যের প্রতীক মানেকি-নেকো। এক পা উঁচু করে থাকা এই বিড়ালের মূর্তিকে সৌভাগ্য, অর্থ ও সমৃদ্ধি আকর্ষণের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দোকান, রেস্তোরাঁ ও বাড়িতে এসব মূর্তি দেখা যায়।

 

 

 

 

পুরোনো ইউরোপীয় নৌ-ঐতিহ্যে জাহাজে বিড়াল থাকাকে সৌভাগ্যের লক্ষণ মনে করতেন নাবিকরা। তাদের বিশ্বাস ছিল, বিড়াল নিরাপদ যাত্রায় সহায়তা করে। তবে বিড়ালের গুরুত্ব শুধু লোকবিশ্বাসে সীমাবদ্ধ ছিল না। জাহাজে ইঁদুর নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতেও তারা কার্যকর ভূমিকা রাখত।

 

 

 

 

স্কটল্যান্ডে অচেনা কোনো বিড়াল বাড়ির দরজায় এসে হাজির হলে সেটিকে সৌভাগ্যের লক্ষণ হিসেবে দেখা হয়। বিশেষ করে কালো বিড়ালকে সমৃদ্ধি ও সুখের প্রতীক মনে করার প্রচলন রয়েছে। এর বিপরীতে ভারতীয় উপমহাদেশের কিছু প্রচলিত বিশ্বাসে কালো বিড়ালকে অশুভ লক্ষণ হিসেবে দেখা হয়। তবে সব সংস্কৃতিতে এমন ধারণা নেই; অনেক জায়গায় কালো বিড়ালও সৌভাগ্যের প্রতীক।

 

 

প্রাচীন মিশরে বিড়ালের মর্যাদা ছিল বিশেষ। তারা বিড়ালকে দেবী বাস্তেত-এর সঙ্গে যুক্ত করত। বাস্তেতকে ঘর, উর্বরতা ও সুরক্ষার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তখন বিড়ালকে পবিত্র প্রাণী হিসেবে দেখা হতো। কোনো বিড়ালকে হত্যা করা, এমনকি দুর্ঘটনাবশত হলেও, গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতো এবং এর জন্য কঠোর শাস্তির বিধান ছিল।

 

 

রাশিয়ায় প্রচলিত একটি ঐতিহ্য হলো, নতুন বাড়িতে সবার আগে একটি বিড়ালকে প্রবেশ করতে দেওয়া। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এতে পরিবারে সুখ, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্য আসে। কিছু বিশ্বাসে বলা হয়, বিড়াল ঘরের নেতিবাচক শক্তি টের পেতে বা শোষণ করতে পারে। ফলে তারা অশুভ শক্তি দূরে রাখতেও সাহায্য করে বলে মনে করা হয়। ভারতেও বিড়ালকে ঘিরে এমন কিছু লোকবিশ্বাস রয়েছে, যেখানে তাদের অন্য কোনো অতিপ্রাকৃত জগতের উপস্থিতি টের পাওয়ার ক্ষমতা আছে বলে ধারণা করা হয়।

 

 

বিড়ালকে ঘিরে এসব বিশ্বাসের কোনোটি সৌভাগ্যের, কোনোটি আবার অশুভের সঙ্গে যুক্ত। কোথাও বিড়ালের হাঁচি অর্থ আসার ইঙ্গিত, কোথাও নতুন বাড়িতে তার প্রবেশ শুভ বলে মনে করা হয়। আবার কোনো কোনো সংস্কৃতিতে তাদের ঘিরে রয়েছে ভ্যাম্পায়ারের মতো রহস্যময় লোককথা। সম্ভবত বিড়ালের রহস্যময় আচরণ ও স্বাধীনচেতা স্বভাবই যুগের পর যুগ মানুষের কল্পনাকে উসকে দিয়েছে। তাই পৃথিবীর যে প্রান্তেই যাওয়া হোক না কেন, বিড়ালকে ঘিরে কোনো না কোনো কৌতূহলোদ্দীপক বিশ্বাসের দেখা মিলবেই।

 

 

সূত্র: ইন্ডল্জ এক্সপ্রেস

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
প্রতিদিনের দৃশ্যপট ২০২৪
Theme Customized BY Kh Raad (FriliX Group)
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com