
শ্যামল হালদার,রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ )প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জ রায়গঞ্জের ভূইয়াগাঁতী মহাসড়ক বাসস্ট্যান্ডে অটোরিকশা সিএনজি ও ভ্রাম্যমাণ দোকানের দখলে থাকায় যানজটে পথচারীদের দুর্ভোগ বাড়ছে। চলে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীরা। দীর্ঘদিন ধরে এ পরিস্থিতি চললেও কার্যকর সমাধান না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) সরেজমিনে দেখা যায়, ভূইয়াগাঁতী আন্ডারপাসের নিমগাছী মোড় এবং রায়গঞ্জমুখী সড়কের গ্রামীণ ব্যাংক সংলগ্ন এলাকায় অটোরিকশা ও সিএনজির অবাধ অবস্থানের কারণে প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া ভূইয়াগাঁতী স্কুল থেকে নিমগাছীগামী সড়কের একাংশ নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ দোকানের দখলে থাকায় পথচারীদের চলাচল অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। পুরো এলাকাটি যেন অটোরিকশা ও সিএনজির অস্থায়ী গ্যারেজে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ পথচারীদের প্রতিদিন নানা ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। সড়কে অবৈধভাবে যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকা এবং দোকানপাট বসানোর কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর গত ৭ জুন সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) সাইফুল ইসলাম খান অভিযান পরিচালনা করেন। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, অভিযানের সময় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও পরে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়।
একজন পথচারী বলেন, “প্রশাসন তাদের দায়িত্ব পালন করছে। তবে সমস্যা সমাধানে সবার সহযোগিতা ও সচেতনতা প্রয়োজন। অটোরিকশা ও সিএনজির জন্য নির্ধারিত গ্যারেজের ব্যবস্থা করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর মহাসড়কের বড় অংশ ফল, সবজি, মাছ, ফুচকা, চটপটিসহ বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ দোকানের দখলে চলে যায়। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পথচারীদের নিরাপদ চলাচলও বাধাগ্রস্ত হয়।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ভ্রাম্যমাণ দোকান, অটোরিকশা ও সিএনজির স্ট্যান্ড বা গ্যারেজ অন্যত্র স্থানান্তর এবং নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে ইসমাইল হোসেন, ওসি, হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানা বলেন, “পুলিশ অভিযান পরিচালনার পরও কিছু অসাধু ব্যক্তি পুনরায় ফুটপাত ও মহাসড়ক দখল করে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে। তবে এ ধরনের অবৈধ দখল উচ্ছেদে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) সাইফুল ইসলাম খান বলেন, “মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবৈধভাবে অটোরিকশা পার্কিং এবং ভ্রাম্যমাণ দোকান বসানোর কারণে যানজট ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ ও চালকদের সচেতনতা বাড়াতে কাজ করা হচ্ছে। সড়ক দখলমুক্ত রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাই।”