1. thedailydrishyapat@gmail.com : TheDaily Drishyapat : TheDaily Drishyapat
  2. info@pratidinerdrishyapat.com : Pratidiner Drishyapat : Pratidiner Drishyapat
  3. admin@thedailydrishyapat.com : admin :
রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৫১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
শিশুবান্ধব সমাজের অঙ্গীকার—রায়গঞ্জে জেগে উঠল শিশু অধিকার সচেতনতা রায়গঞ্জের সাংবাদিক আশরাফ আলীর মাতার জানাযা সম্পন্ন  তাড়াশে ক্যান্সার আক্রান্ত জাহাঙ্গীরের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন ব্যবসায়ী উজ্জল ফাঁসির দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন ও বিক্ষোভ  যমুনায় অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে দুই যুবদল নেতার অর্থদণ্ড মহড়ায় সফল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কুড়িগ্রামে জমি নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ নিহত ৩ উল্লাপাড়ায় এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার একযোগে পদত্যাগ করলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৫০ নেতা জমিতে কীটনাশক প্রয়োগের সময় বিষক্রিয়ায় প্রাণ গেল কৃষকের

দারিদ্র্যের কষাঘাতে থমকে দাঁড়ানো স্বপ্ন-খাবারের বিনিময়ে হোটেলে কাজ করছে রায়গঞ্জের ছোট্ট হাবিব

সংবাদ প্রকাশক:
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২২ Time View

 

 

দৃশ্যপট ডেস্ক রিপোর্টঃ

দশ–বারো বছরের ছোট্ট একটি ছেলে। নাম তার হাবিব। বয়স যার স্কুলের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে দৌড়ানোর, সহপাঠীদের সঙ্গে স্বপ্ন বুনে বড় হয়ে ওঠার কথা—সেই বয়সেই জীবনের নির্মমতার কাছে হার মানতে হয়েছে তাকে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পাঙ্গাসী বাজারের একটি ছোট হোটেলে থালা ধোয়া, পানি ধরা, গ্যাসের আগুনে হাত পুড়িয়ে কাজ করতে হয়। বিনিময়ে মজুরি নয়—শুধু দুই বেলার খাবার।

হাবিবের এই শ্রমজীবী দিনগুলোর আড়ালেই লুকিয়ে আছে আরও কঠিন বাস্তবতা। রায়গঞ্জ উপজেলার ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নের জানকীগাতী গ্রামের এই শিশুটি এক হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। তার মা নাসিমা খাতুন অন্যের বাসায় কাজ করেন। বড় বোন নিজের সংসারে ব্যস্ত। বাবা আব্দুল রউফ বহু আগেই দ্বিতীয় বিয়ে করে চলে গেছেন—ফিরে তাকানোর প্রয়োজনও মনে করেননি। শাশুড়ির বসতবাড়িতে আশ্রিত হয়ে কোনো রকমে দিন কাটে তাদের।

মা নাসিমা খাতুন নিজের সীমিত সামর্থ্য সত্ত্বেও হাবিবকে স্থানীয় লায়লা মিজান স্কুল অ্যান্ড কলেজে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করেছিলেন। কিন্তু অভাবের টান এতই প্রবল যে, বইখাতা একসময় হার মানে পেটের ক্ষুধার কাছে। পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে ছোট্ট হাবিবের হাতেই উঠে আসে কাজের বোঝা।

 

যে হোটেলে হাবিব কাজ করে, তার মালিক মনিরুজ্জামান খান বলেন,“কয়েকদিন দেখি হোটেলের সামনে কোণায় একা দাঁড়িয়ে থাকে। খুব ক্লান্ত আর অভুক্ত মনে হচ্ছিল। পরে ওর মায়ের সঙ্গে কথা বলে তাকে কাজে রাখি—শুধু খাওয়াদাওয়ার বিনিময়ে, কাজ শিক্ষলে বেতন দেওয়া হবে। ওর বয়স স্কুলে থাকার। কিন্তু ওর জীবনের বাস্তবতা আমাদের হাতের চেয়ে অনেক বড়।”

 

হাবিবের মা নাসিমা খাতুন চোখের পানি লুকাতে লুকাতে বলেন,“স্বামী আমাকে ফেলে গেছে। মেয়ের আলাদা সংসার। আমি অন্য বাসায় কাজ করি। ছেলের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গেছে। ও এখন নিজের পেটে খাবার জোগাড় করতে হোটেলে কাজ করে। খুব কষ্টে দিন চলে। যদি কেউ একটু পাশে দাঁড়াত, ছেলেটা আবার স্কুলে যেতে পারত।”

প্রতিবেশী জহুরুল ইসলাম শেখ বলেন,“এরা খুব দরিদ্র। দেখভালের মতো কেউ নেই। সমাজের মানুষ একটু সহায়তা করলে হাবিবের পড়ালেখা থামত না। এই শিশুর খুব প্রয়োজন মানবিক সহযোগিতা।”

 

ব্রহ্মগাছা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন,“ছেলেটির বিষয়ে বিস্তারিত আপনার মাধ্যমে জানলাম। আমি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব। হাবিব যাতে আবার পড়ালেখায় ফিরতে পারে, সে বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ সহযোগিতা করবে।

দারিদ্র্য হাবিবের স্বপ্নকে থামিয়ে দিয়েছে ঠিকই—কিন্তু সমাজের একটু সহানুভূতি, একটুখানি সহযোগিতা হয়তো এই শিশুর জীবনকেও বদলে দিতে পারে।

হাবিবের মতো হাজারো শিশুর স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার। একটি সাহায্যের হাতই হতে পারে তার নতুন পথচলার সূচনা।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
প্রতিদিনের দৃশ্যপট ২০২৪
Theme Customized BY Kh Raad (FriliX Group)
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com