
চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে এক কিলোমিটার সড়ক নির্মান কাজ প্রায় ২ বছরেও শেষ হয়নি। কাজের গতি ও মান নিয়ে অভিযোগ রয়েছে এলাকাবাসীর। স্থানীয়রা বারবার বলেও গতি বাড়াতে পারেনি সংশ্লিষ্টদের। এতে দুর্ভোগে যাতায়াত করছে উপজেলা সদরের জোতপাড়া-জনতা স্কুল সড়কে চলাচলকারী শিক্ষার্থী সহ পথচারী।জানা যায়, এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকল্পে ২০২৪ সালের শুরুর দিকে চৌহালী উপজেলা সদরের জোতপাড়া থেকে জনতা স্কুল পর্যন্ত ১২৭০ মিটার সড়ক নির্মান কাজ শুরু হয়।
পাবনা-বগুড়া প্রকল্পের আওতায় এর জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় এক কোটি ৩৯ লাখ টাকা।এ কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মীর এন্টার প্রাইজ কয়েক দফায় মাটির কাজ, বালু ক্লিনিং, সাববেজ, এজিং এবং ডাব্লিউ বিএম সম্পন্ন করেছে। তবে সড়কটি নির্মানের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজের সমাপ্তি বা কাপেটিং না করে ফেলে রেখেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
এতে ওই সড়কে চলাচলকারী আশপাশের অন্তত ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী সহ কয়েক গ্রামের হাজার হাজার পথচারীকে দুর্ভোগে পড়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। একই সাথে রাস্তায় ফেলা বালু মিশ্রিত খোয়া নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
এছাড়া বেশ কয়েক জায়গায় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।দরপত্র অনুযায়ী এই সড়কে পূর্বের এইচবিবির ইট সহ অন্যান্য মালামাল ছিল ৩৯ লাখ টাকার। পরে ১ কোটি টাকায় কাজ করতে চুক্তিবদ্ধ হন মেসার্স মীর এন্টার প্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
শুরুতে রাস্তা খুড়ে বেশ কয়েক মাস ফেলে রাখে। এতে বৃষ্টি হলেই হাটু পানিতে চলাচলতে করতে হয়েছে এলাকাবাসিকে। পরে দফায় দফায় কাজ করা হলেও চুক্তিকালীন এক বছর মেয়াদেও শেষ হয়নি সড়ক নির্মান।চৌহালী উপজেলা এলজিইডির সূত্র জানান, মেয়াদ অনুযায়ী কাজ শেষ হবার কথা থাকলেও এখনও মোটামুটি ৬০ শতাংশ কাজ শেষ করতে পারেননি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি।
জনদুর্ভোগ লাঘবে কাজের গতি বৃদ্ধি করতে ইতোমধ্যে অবগত করা হয়েছে। ৫৫ শতাংশ বিল উত্তোলন করেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয় নুর ইসলাম, মো. সাইফুল ইসলাম ও ভ্যান চালক বাবলু হোসেন জানান, রাস্তা কেটে কয়েক মাস ফেলে রাখা হয়। এরপর নিম্নমানের বড় বড় খোয়া ফেলে রোলার না দিয়ে আরো কয়েক মাস ফেলে রাখা হয়। ফলে পথচারীরা এ রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে প্রতিদিনই দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। যতটুকুন কাজ হয়েছে এক দিকে ধীর গতি অন্য দিকে নিম্নমানের। এ রাস্তার স্থায়িত্ব নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে মেসার্স মীর এন্টার প্রাইজের সত্বাধিকারী মীর সেরাজুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা যায়নি। তবে তার এক প্রতিনিধি জানান, চৌহালীতে কুরমান নামের একজন কাজের দেখাশোনা করে। এছাড়া উপজেলা এলজিইডি অফিসে গিয়ে তথ্য নিন।
চৌহালী উপজেলা এলজিইডির সার্ভেয়ার মশিউর রহমান মামুন জানান, বৃষ্টি সহ নানা কারনে কাজের কিছুটা ধীরগতি ছিল, এজন্য নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ হয়নি, ইতোমধ্যে পাথর সহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী আনা হয়েছে। বিটুমিন আনা হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাপেটিং এর কাজ শুরু করবে।