
খ ম জায়েদ হোসেন,নাসিরনগর(ব্রাহ্মণবাড়ীয়া) প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় নিখোঁজের চার দিন পর একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত যুবকের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তাঁর নাম হাবিবুর রহমান (১৮)। জন্মগতভাবে তিনি শারীরিক, মানসিক ও বাক্প্রতিবন্ধী ছিলেন।
পরিচয় শনাক্তের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে নাসিরনগর থানার নির্দেশনায় মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ আগস্ট সন্ধ্যায় গোকর্ণ ইউনিয়নের জেঠাগ্রাম চটিপাড়া এলাকার একটি পরিত্যক্ত ডোবায় যুবকের মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে অজ্ঞাত যুবকের পরিচয় শনাক্তে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের ফেসবুক পেজে ছবি ও তথ্য দিয়ে পোস্ট করা হয়।
ওই পোস্ট দেখে হাবিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যরা তাঁর পরনে থাকা কালো-সাদা ডোরাকাটা শার্ট দেখে মরদেহটি শনাক্ত করেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, গত ২৫ আগস্ট সকালে চাচির বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর হাবিব আর বাড়িতে ফেরেননি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরিবারের ধারণা, ওই রাতে একটি মিলাদ ও মাহফিল থেকে ফেরার পথে অন্ধকারে তিনি ডোবার পানিতে পড়ে গিয়ে মারা যেতে পারেন।
হাবিবের চাচা আব্দুল জলিল বলেন, ফেসবুকে অজ্ঞাত মরদেহের ছবি দেখে পরনের শার্টের মাধ্যমে তাঁরা হাবিবকে শনাক্ত করেন। চার দিন পর হলেও নিখোঁজ স্বজনের মরদেহ শনাক্ত করে শেষবারের মতো পরিবারের কাছে ফিরে পাওয়ায় পুলিশ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
নাসিরনগর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম জানান, অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় শনাক্তে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পোস্টের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি শনাক্ত করেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।