
মনোয়ারুল ইসলাম, লালমনিরহাট ( রংপুর) প্রতিনিধি
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, কৃষির বাণিজ্যিকীকরণ ও কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, দেশের কৃষি খাতের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
শনিবার(২০ জুন) সকালে লালমনিরহাট সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজিত ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) কংগ্রেস-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, সময়ের সঙ্গে মানুষের চাহিদা ও রুচির পরিবর্তনের পাশাপাশি কৃষি খাতেও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কৃষির উন্নয়নে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তাঁর উদ্যোগে বাস্তবায়িত খাল খনন কর্মসূচি পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি কৃষিজমিতে পানি নিষ্কাশন ও সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চল দেশের অন্যতম কৃষি সম্ভাবনাময় অঞ্চল। এখানকার কৃষকেরা বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য উৎপাদন করলেও অনেক সময় ন্যায্যমূল্য পান না। ফলে তাঁরা নির্দিষ্ট ফসলের আবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।
তামাক চাষ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, অন্যান্য ফসলে ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, অধিক লাভের আশায় এবং বিভিন্ন কোম্পানির প্রভাবে অনেক কৃষক তামাক চাষে ঝুঁকছেন। অথচ তামাক জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কৃষকদের বিকল্প লাভজনক ফসল উৎপাদনে উৎসাহিত করার পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্যের বাজার নিশ্চিত করতে হবে।
রাসায়নিক বালাইনাশকের ব্যবহার কমিয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে পোকামাকড় দমনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে জৈব কৃষি চর্চা সম্প্রসারণে একটি পাইলট কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, উত্তরাঞ্চলে উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানি করা গেলে কৃষকেরা তাঁদের পণ্যের যথাযথ মূল্য পাবেন। এ লক্ষ্য সামনে রেখে সরকারের একটি দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় প্রতিটি ইউনিয়নে কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য সংরক্ষণাগার নির্মাণ এবং উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, লালমনিরহাটের উপপরিচালক ড. মোঃ সাইখুল আরিফিন বলেন, কৃষিপণ্য উৎপাদনে দেশ অনেক এগিয়ে গেলেও মানসম্মত উৎপাদনের ক্ষেত্রে এখনও ঘাটতি রয়েছে। উৎপাদনের পাশাপাশি পণ্যের গুণগত মান উন্নয়নে কাজ চলছে। কৃষির বাণিজ্যিকীকরণে আধুনিক ও কার্যকর পদ্ধতি গ্রহণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাস, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তারা।
পরে ত্রাণমন্ত্রী লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন।