
পলাশ চন্দ্র সরকার,মান্দা ( নওগাঁ) প্রতিনিধি
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় বেদখল হয়ে যাওয়া প্রায় ২৫ বিঘা জমি উদ্ধার এবং নিজের ও ছেলে শাহজাহান কবিরাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জাহেদা বিবি নামের এক বিধবা নারী। শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে উপজেলার পরানপুর ইউনিয়নের সোনাপুর উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জাহেদা বিবি মান্দা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
জাহেদা বিবির অভিযোগ, তার প্রথম ছেলে সামসুদ্দীন কবিরাজ ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে এবং হুমকি-ধামকি দিয়ে অন্তত ২৫ বিঘা জমি জবরদখল করে রেখেছে। গত আমন মৌসুমে তারা ভাড়াটিয়া লোকজন দিয়ে প্রায় সাড়ে ৮ বিঘা জমির ধান কেটে নিয়ে যায়। এছাড়া সরিষা, আলু, ৩ শতাধিক বাঁশ এবং দুটি পুকুরের মাছও লুট করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, এসব ঘটনার প্রতিবাদ করায় গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা হামলা ও মারধরের শিকার হন। এ বিষয়ে মান্দা থানায় অভিযোগ করা হলেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে আদালতে ১০৭ ধারাসহ নিষেধাজ্ঞার মামলা দায়ের করেও কাঙ্খিত সুফল মেলেনি বলেও জানান।
সংবাদ সম্মেলনে জাহেদা বিবি অভিযোগ করেন, আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে প্রতিপক্ষরা এখনো দখলকৃত জমিতে চাষাবাদ করছে। চলতি বোরো মৌসুমে ফসল রক্ষার জন্য নওগাঁ আদালতে রিসিভার নিয়োগের আবেদন করা হলে আদালত পরানপুর ইউনিয়নের ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা গৌতম কুমারকে দায়িত্ব প্রদান করেন। তবে তার দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা প্রতিপক্ষের প্রভাবের কারণে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেননি, ফলে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে তিনি শঙ্কিত।
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে জাহেদা বিবি বলেন, প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে ও তার ছেলে শাহজাহান কবিরাজকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। তারা বিভিন্ন সময় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দেয় এবং বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ কারণে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে তার দিন কাটছে।
জাহেদা বিবির ছেলে শাহজাহান কবিরাজ অভিযোগ করে বলেন, পরানপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আতাউর রহমান প্রতিপক্ষকে সহযোগিতা করছেন। থানায় অভিযোগ দেওয়া হলেও তদবিরের মাধ্যমে সেগুলো কার্যকর হতে দেওয়া হয়নি বলে তার দাবি। হুমকির কারণে আদালতের মামলায় হাজিরা দিতে যেতেও পারছেন না। জমি থেকে বঞ্চিত হওয়ায় তাদের পরিবার বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পরানপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আতাউর রহমান। তিনি বলেন, ‘জমিজমা নিয়ে শাহজাহানের পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিরোধ রয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। থানায় কোনো পক্ষের হয়ে তদবির করার অভিযোগও সঠিক নয়।’
এ বিষয়ে পরানপুর ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা গৌতম কুমার বলেন, ‘বিবাদীরা হুমকি দিয়ে অধিকাংশ জমির ধান কেটে নিয়ে গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আদালতে একটি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে জাহেদা বিবি তার বেদখল সম্পত্তি উদ্ধার, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।