
মাসুদ রানা মনি,লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ফরিদ আহমদ ভূঁইয়া একাডেমির হোস্টেলে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে একাডেমি প্রাঙ্গণে তারা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে এবং বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি জানায়।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী একটি আইফোন চুরির অভিযোগ এনে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান, ইসমাইলসহ কয়েকজনকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদের নামে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে।
সহপাঠীদের দাবি, নির্যাতনের বিষয়টি মেহেদী ও অন্যান্য শিক্ষার্থী লিখিতভাবে অধ্যক্ষকে জানালেও তাৎক্ষণিক কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযোগ করার পরও মেহেদীকে পুনরায় নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।
এরপর গত ১৬ জুন বিকেলে কলেজ হোস্টেলের বারান্দায় গলায় মাফলার পেঁচানো অবস্থায় মেহেদীকে উদ্ধার করা হয়। পরে তার মৃত্যু হয়। সহপাঠীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণেই সে এমন চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে মেহেদীর স্বজন ও বিক্ষুব্ধ জনতা একাডেমিতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
এদিকে একাডেমির অধ্যক্ষ খন্দকার আব্দুল মান্নান এক বিবৃতিতে বলেন, দ্বাদশ শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থীর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণেই অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
রামগঞ্জ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম এক বিবৃতিতে বলেন, “স্কুলছাত্র মেহেদী হাসানের মৃত্যুর দায় একাডেমি কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।”
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক এবং রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী। তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের আশ্বাস দেন।
এদিকে মেহেদীর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে রামগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শহরের চৌরাস্তায় সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।