সিরাজগঞ্জের তাড়াশে লিজকৃত একটি পুকুর পাড়ের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর এবং প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ টাকার মাছ লুটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, এই চক্রটি চৌপাকিয়া মসজিদের যাবতীয় সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করে খাচ্ছে বলেও জানা গেছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তাড়াশ উপজেলার চৌপাকিয়া এলাকায় একটি লিজকৃত পুকুর পাড়ের ঘরে অতর্কিতে হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতকারী। হামলাকারীরা ঘরগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পরবর্তীতে তারা পুকুর থেকে আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ টাকার মাছ জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায়। এই তাণ্ডব ও লুটপাটের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে— ইয়াকুব, আলেব, আশরাফ, আবু সামা, নুরুল, সাইফুল, মোফাজ্জল, কালাম, আব্দুল জব্বার, শামসুলসহ আরও বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দলে কোনো আনুষ্ঠানিক পদ-পদবী নেই। তারা মূলত বিএনপির নাম ভাঙিয়ে এলাকায় একের পর এক অপকর্ম ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের ভয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ তটস্থ। এছাড়া চৌপাকিয়া মসজিদের ধানী জমি ও পুকুরসহ যাবতীয় সম্পত্তি এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক ভোগদখল করে আসছে বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে জানা যায়, নিজেরা এত বড় অপকর্ম ও লুটপাট চালিয়ে এখন ঘটনাটি ভিন্ন খাতে মোড় নেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে অভিযুক্তরা। নিজেদের অপরাধ ঢাকতে এবং প্রকৃত ভুক্তভোগীকে হেনস্তা করতে তারা উল্টো ভুক্তভোগীর নামেই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছে।
এই বিষয়ে ভুক্তভোগী শামিম হোসেন বলেন, তারা আমার লিজ নেওয়া পুকুর পাড়ের ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে, কোটি টাকার কাছাকাছি মাছ লুট করেছে এবং মসজিদের সম্পত্তি গ্রাস করছে। এদের কোনো দলীয় পদবী নেই, শুধু বিএনপির নাম ভাঙিয়ে এরা এলাকায় তাণ্ডব সৃষ্টি করেছে। এখন নিজেদের বাঁচাতে তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা নাটক সাজিয়ে মানববন্ধন করছে। আমি প্রশাসনের কাছে এর তীব্র নিন্দা ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।
এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং এই সন্ত্রাসী বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে ও লুটপাট হওয়া সম্পদের সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে তাড়াশ থানা পুলিশ প্রশাসন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।