
প্রতিবেদক আব্দুল লতিফ , রায়গঞ্জ থেকে –
দীর্ঘদিনের কষ্ট, দুর্ভোগ আর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চলাচলের উপযোগী হলো রায়গঞ্জের নলকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। তবে এই পরিবর্তন এসেছে কোনো বড় প্রকল্পে নয়—এটি সম্ভব হয়েছে এলাকার সাধারণ মানুষের ঐক্য, আন্তরিকতা আর মানবিক উদ্যোগে।
এরান্দহ এলাকায় মন্টু মাস্টারের বাড়ি থেকে বোয়ালিয়ার চর বাজারগামী সড়কের একটি অংশ, বিশেষ করে নুরুল ইসলামের পুকুরপাড় সংলগ্ন ভূইয়া বাড়ির সামনে, বছরের পর বছর ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে ছিল। বর্ষা এলেই সেই দুর্দশা আরও বেড়ে যেত—রাস্তা ভেঙে পুকুরে পড়ে যেত, কাদায় ডুবে যেত পথ। শিশুদের স্কুলে যাওয়া, রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া, এমনকি নিত্যদিনের সাধারণ চলাচলও হয়ে উঠত এক বড় কষ্টের বিষয়।
অনেকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ না আসায় একসময় এলাকার মানুষ নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেন—“অপেক্ষা নয়, এবার নিজেরাই কিছু করতে হবে।”
এরপর শুরু হয় এক মানবিক উদ্যোগ। সরকার বাড়ি, খন্দকার বাড়ি, ভূইয়া বাড়িসহ আশপাশের এলাকার মানুষ একত্রিত হন। কেউ অর্থ দিয়েছেন, কেউ শ্রম, কেউ আবার নির্মাণসামগ্রী জোগাড়ে এগিয়ে এসেছেন। তরুণদের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রবীণরা, আর এই কাজে সমানভাবে অংশ নিয়েছেন নারীরাও।
প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলে নিরলস পরিশ্রম। বাঁশ, কাঠ ও জিআই তার দিয়ে পাইলিং করে দুর্বল অংশগুলো মজবুত করা হয়। এরপর বেকু মেশিন দিয়ে মাটি ভরাট করে রাস্তা সমতল করা হয়। ধীরে ধীরে একটি অচল পথ আবার মানুষের চলার পথ হয়ে ওঠে।
এই উদ্যোগ শুধু একটি রাস্তা নির্মাণ নয়—এটি মানুষের প্রতি মানুষের দায়বদ্ধতা, ভালোবাসা আর সহযোগিতার এক অনন্য উদাহরণ। এলাকাবাসী প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছা আর একতা থাকলে সীমিত সামর্থ্য দিয়েও বড় পরিবর্তন সম্ভব।
এখন সেই পথে হেঁটে যাচ্ছে শিশুরা, স্বস্তিতে চলাচল করছেন বৃদ্ধরা—আর মানুষের মুখে ফুটে উঠছে তৃপ্তির হাসি। এই ছোট্ট উদ্যোগই যেন বড় এক আশার গল্প।