
ডেস্ক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলীকে মারধর ও বাঁশ নিয়ে দৌড়ানোর ঘটনায় করা মামলায় ঠিকাদারের ম্যানেজার ফোরকানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সদর উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে ঠিকাদার লোকমান হোসেন (৫০) ও তার গাড়িচালক বিল্লাল হোসেনসহ অজ্ঞাত আরও ৩/৪ জনকে আসামি করে নবীনগর থানায় এ মামলা করা হয়। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নবীনগর থানায় এ মামলা করেন ভুক্তভোগী উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী (এলজিইডি) মির্জা তরিকুল ইসলাম। মামলার প্রাধান আসামি লোকমান হোসেন জেলা শহরের ছয়বাড়িয়ার বাসিন্দা ও মেসার্স লোকমান হোসেন নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী।
জানা গেছে, নবীনগর উপজেলার মেরকুটা বাজার থেকে শিবপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কার্যাদেশ পায় রাজশাহীর মেসার্স বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সড়কটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ কোটি ৬৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের পক্ষে সড়কটির নির্মাণকাজ করছিলেন ঠিকাদার লোকমান হোসেন। কিন্তু সড়কটি নির্মাণে নিম্নমানের কাজ হচ্ছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ ওঠে এবং গত রোববার এলাকাবাসী সড়কের নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগে বাধাও দেন। পরে উপজেলা প্রকৌশলীসহ অন্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঠিকাদারকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সড়কের নিম্নমানের কাজের অভিযোগ পেয়ে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মেরকুটা জিসি থেকে শিবপুর বাজার আরঅ্যান্ডএইচ সড়ক পরিদর্শন করতে যান এলজিইডির প্রকৌশলীদের একটি দল। সে সময় তারা রাস্তার নিম্নমানের কাজের প্রমাণ পান।
রাস্তার নির্মাণকাজে নিয়োজিত ঠিকাদার ও মামলার আসামি লোকমানকে নিম্নমানের কাজের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঠিকাদার লোকমান এলজিইডির প্রকৌশলীদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। গালাগাল করতে নিষেধ করলে ঠিকাদার লোকমান, তার গাড়ির চালক বিল্লালসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা উপসহকারী প্রকৌশলী মির্জা তরিকুল ইসলামকে লাঠি দিয়ে পায়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন এবং ইট দিয়ে ঢিল মেরে আঘাত করেন। সহকর্মীরা বাঁচানোর জন্য এগিয়ে গেলে আসামিরা তাকে হত্যার হুমকি দেন ও ধাওয়া করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রাস্তার কাজে অনিয়ম, বাধা দেওয়ায় প্রকৌশলীকে বাঁশ দিয়ে ধাওয়া
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার ছড়িয়ে পড়া দুটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ঠিকাদার লোকমান হোসেন তার লোকজন প্রকৌশলী মির্জা তরিকুল ইসলামকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাটিতে ফেলে পেটাচ্ছেন, একপর্যায়ে প্রকৌশলীকে দৌড়ে সেখান থেকে পালাতে দেখা গেছে। প্রকৌশলীর পেছনে বাঁশ নিয়ে দৌড়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করছেন ঠিকাদার লোকমান হোসেন।
এলজিইডির ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল বলেন, সড়কের নির্মাণকাজে অনিয়ম ধরা পড়ায় তাৎক্ষণিক কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু ঠিকাদার অফিসকে না জানিয়ে রাতের বেলা কাজ করেন। জানতে পেরে রাতেই উপজেলা প্রকৌশলী ও তদারকির দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী ঘটনাস্থল পরিদর্শনে করে ঘটনার সত্যতা পান।
তিনি আরও বলেন, সোমবার দুপুরে এলজিইডির একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শনে যান। তখন প্রতিনিধিদল ঠিকাদারকে জানান, যতটুকু অনিয়ম হয়েছে, ততটুকু ভেঙে নতুনভাবে করতে হবে। এ কথা বলার পর ঠিকাদার লোকমান উত্তেজিত হয়ে তার লোকজন নিয়ে উপসহকারী প্রকৌশলীকে মারধর করেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।
এ বিষয়ে একাধিকবার চেষ্টা করেও মুঠোফোনে ঠিকাদার লোকমান হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।
নবীনগর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, উপসহকারী প্রকৌশলী মারধরের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলা থেকে ঠিকাদারের ব্যবস্থাপককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৫ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।