সিরাজগঞ্জে তাড়াশে মসজিদের পুকুরে রাতে বিষ প্রয়োগ করে সকালে জোড়পূর্বক মাছ ধরে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে, শুক্রবার ভোরে উপজেলার তালম ইউনিয়নের গাবরগাড়ী জামে মসজিদের পুকুরে। অভিযুক্ত বিএনপির নেতারা হলেন- তালম ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক ও তালম ইউনিয়ন তাঁতিদলের সভাপতি মো. এনামুল হক।
এ দিকে শুক্রবার রাতে মসজিদের পুকুরের জোরপূর্বক ১০ লাখ টাকার মাছ মেরে আত্মসাতের বিচার চেয়ে তাড়াশ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন গাবরগাড়ী মসজিদ কমিটির সভাপতি আলহাজ¦ মো. আলতাফ হোসেন।
শনিবার বিকালে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গাবরগাড়ী মসজিদ কমিটি ১৩৪২ বাংলা সনে তপশিলে সম্পত্তি পত্তনী পেয়ে সেখানে পুকুর খনন করে মাছ চাষ করা হয়। ওই টাকায় মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিম, খাদেমের বেতনসহ অন্যান্য ব্যয় করে থাকেন মসজিদ কমিটি। সম্প্রতি সময়ে আব্দুর রাজ্জাকগং নিজেদের সম্পত্তি দাবী করে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করছে। মামলা মোকদ্দমার মাধ্যমে বর্তমানে গাবরগাড়ী জামে মসজিদ কমিটি ডিক্রীপ্রাপ্ত হয়ে ভোগ দখল করে আসছে। এ জন্য গত ৫ মাস ধরে পুকুরে মাছ মেরে নিবেন বলে মসজিদ কমিটির সদস্যদের হুমকি-ধামকি দিয়েও আসছেন আব্দুর রাজ্জাকগং। আর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মসজিদের পুকুরে বিষাক্ত কীটনাশাক দিয়ে শুক্রবার ভোরে ওই দুই নেতার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৮জন মানুষ প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার মাছ ধরে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে মসজিদ কমিটি পুকুর পাড়ে গিয়ে তাদের মাছ ধরতে নিষেধ করলে দেশিয় অস্ত্র লাঠি-সোঠা, রডসহ হামলা করতে যায় এবং বিভিন্নভাবে শাসান। পরে মসজিদ কমিটির পক্ষে থেকে জরিরু সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই ওই নেতারা মাছ ধরে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপির নেতা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পুকুরের পানিতে গ্যাস হয়েছিল। পুরো গ্রামের মানুষই মাছ ধরছে। সেখানে আমাদের লোকজনও মাছ ধরছে। আর এখন আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।







