1. thedailydrishyapat@gmail.com : TheDaily Drishyapat : TheDaily Drishyapat
  2. info@pratidinerdrishyapat.com : Pratidiner Drishyapat : Pratidiner Drishyapat
  3. admin@thedailydrishyapat.com : admin :
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ

রাজা-রানীকে দেখতে রংপুর চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের ভিড়

সংবাদ প্রকাশক:
  • Update Time : শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৯৬ Time View

 

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর

রংপুর চিড়িয়াখানায় রয়েল বেঙ্গল টাইগার রোমিও জুলিয়েট দম্পতির ঘরে জন্ম নিয়েছে দুই শাবক। যাদের নাম রাখা হয়েছে রাজা-রানী। জন্মের তিন মাস পর আনুষ্ঠানিকভাবে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। আর এই দুই শাবককে দেখতে প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শনার্থীদের ভিড়।

চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা যায়, দেশের দুটি সরকারি চিড়িয়াখানার মধ্যে রংপুর চিড়িয়াখানাটি অন্যতম। এখানে প্রজননের জন্য আবহাওয়া উপযোগী হওয়ায় বিভিন্ন দুর্লভ প্রজাতির প্রাণীর বংশ বৃদ্ধি হয় এই রংপুর চিড়িয়াখানায়। রংপুর চিড়িয়াখানায় বাঘ, ভালুক, সিংহ, হরিণ ও জলহস্তিসহ নানা প্রজাতির পাখির বংশবৃদ্ধি হয়েছে ইতোমধ্যে।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রংপুর চিড়িয়াখানায় ১৯৯১ সালে উন্মুক্ত হওয়ার পর থেকে কয়েকটি শাবক জন্ম নিয়েছে। জন্ম নেওয়া শাবকদের ঢাকা চিড়িয়াখানাসহ বেশ কয়েকটি দেশে উপহার হিসেবে পাঠানো হয়েছে।

রয়েল বেঙ্গল টাইগার রোমিও জুলিয়েট দম্পতির ঘর আলো করে তিন মাস আগে দুটি শাবক জন্ম নেয়। শাবক দুটির নাম রাখা হয়েছে রাজা ও রানী। জন্মের পর থেকে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দুই শাবককে বিশেষ যতেœর সাথে দেখভাল করে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। শাবক দুটি যাতে নিরিবিলিভাবে মায়ের দুগ্ধ পান করতে পারে সে জন্য মা জুলিয়েটের সাথে আলাদা করে রাখা হয়। এসময় বাবা রোমিওকে আলাদাভাবে রাখা এই তিন মাস। তাদের খুবই যতেœর সাথে এবং গুরুত্বের সাথে চিকিৎসা সেবাও প্রদান করা হয়। এভাবেই নিবিড় পরিচর্যার মধ্য দিয়ে ৩ মাস অতিবাহিত হবার পর ২১ ডিসেম্বর রোববার থেকে শাবক দুটিকে তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে একসঙ্গে দেওয়া হয়।

এদিকে, রয়েল বেঙ্গল টাইগার রোমিও জুলিয়েট দম্পতির দুই শাবককে দেখতে রংপুর চিড়িয়াখানায় বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে দর্শনার্থীদের উপচে ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। শীতকে উপেক্ষা করে

 

বিভিন্ন এলাকা থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে শিশুরা এসেছে শাবককে একনজর দেখতে। সন্তানদের নিয়ে বাঘের শাবকদের দেখতে এসেছেন অসংখ্য বাবা-মা। শাবক দুটির জন্য আগের থেকে কয়েকগুণ বেড়েছে দর্শনার্থী। বড় খাঁচায় বাবা মাকে একসঙ্গে পেয়ে রাজা-রানীও বেশ আনন্দিত। শাবক দুটির ছোটাছুটি ও মা বাবার সাথে খুনসুটি বেশ উপভোগ করছে দর্শনার্থীরা। বাঘের বাচ্চা দেখতে এসে খুশি শিশুরা। নাদুস-নুদুস বাঘের শাবক দুটি বিনোদনের যেন খোরাক হয়ে উঠেছে দর্শনার্থীদের।

কুড়িগ্রাম থেকে বাঘের শাবক দেখতে আসা শারমিন আক্তার জানান, তিনি তার দুই মেয়েকে নিয়ে বাঘের শাবক দুটিকে দেখতে এসেছেন। খাঁচার মধ্যে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দুটি শাবক দেখে খুবই ভালো লাগছে বলে জানান তিনি। মেয়েরাও খুশি। তবে শাবক দুটিকে ভালোভাবে লালন পালন, পরিচর্যার মাধ্যমে বড় করে রংপুরেই রাখবে কর্তৃপক্ষ এমন অনুরোধও করেছেন তিনি। একইভাবে পীরগঞ্জ থেকে রেজাউল করিম মানিক এসেছেন বাঘের শাবক দুটিকে দেখতে দুই ছেলে মেয়ে কে নিয়ে। বাঘের শাবক দেখে খুবই আনন্দিত তার ছেলে মেয়ে।

রংপুর নগরীর কামাল কাছনা এলাকার ফরহাদ হোসেন এসেছেন পরিবারের সবাইকে নিয়ে। বাঘের বাচ্চাকে দেখে ভালোই লাগছে। বাচ্চা দুটির খুনসুটি তাদের বেশি ভালো লাগছে বলে জানান তিনি। ফরহাদ হোসেনের মতো শাবক দুটিকে দেখতে এসেছেন সদ্য বিবাহিত বৌ কে নিয়ে মুলাটোল নজরুল চত্তর এলাকার কামরুল হাসান । তিনিও আনন্দিত শাবক দুটিকে দেখে।

রংপুর চিড়িয়াখানার ইজারাদার হজরত আলী জানান, আল্লাহর অশেষ রহমতে বাঘের বাচ্চা দুটি ভালো আছে। তাদের বিশেষ যতœ নেওয়া হচ্ছে। বাঘের বাচ্চা দুটিকে দেখার জন্য প্রচণ্ড শীতকে উপেক্ষা করে দর্শনার্থীরা আসছেন। দর্শনার্থীদের জন্য পশু পাখি দিয়ে কীভাবে আরো সমৃদ্ধ করা যায়, সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে কিউরেটর। আশা করছি অল্প দিনের মধ্যে জিরাফ আনা চিড়িয়াখানায়।

রংপুর চিড়িয়াখানার চিকিৎসক ডা: শাহাদত হোসেন বলেন, রয়েল বেঙ্গল টাইগার দম্পতি এর আগেও দুবার গর্ভবতী হয়েছিল কিন্তু মিসকারেজ হওয়ায় বাচ্চা নষ্ট হয়েছে। এ জন্য এবারে বিশেষভাবে যতœ নেওয়া হয়। নিয়মিত পরিচর্যা করা হয়। যার ফলে দুটি শাবকের জন্ম দিয়েছে দম্পতি। আলহামদুলিল্লাহ শাবক দুটি ভালো আছে। শীতকাল হওয়ায় আলাদা করে যতœ নেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, রংপুর চিড়িয়াখানাটি ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও তা ১৯৯১ সালে উন্মুক্ত করা হয়। উন্মুক্তের সময় ২৩ প্রজাতির প্রাণী প্রদর্শন করা হয়েছিল। বর্তমানে চিড়িয়াখানায় ২৭ প্রজাতির প্রায় আড়াইশ প্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সুন্দরবনের বেঙ্গল টাইগার, সিংহ, গন্ডার, জলহস্তী, হরিণ, বানর, চিতাবাঘ, ভালুক, কুমির, অজগর, কচ্ছপ, ময়না, টিয়া, ময়ূর, কাকাতুয়া, কবুতর, বকসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
প্রতিদিনের দৃশ্যপট ২০২৪
Theme Customized BY Kh Raad (FriliX Group)
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com