1. thedailydrishyapat@gmail.com : TheDaily Drishyapat : TheDaily Drishyapat
  2. info@pratidinerdrishyapat.com : Pratidiner Drishyapat : Pratidiner Drishyapat
  3. admin@thedailydrishyapat.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
রায়গঞ্জে ‘ইউপি চেয়ারম্যান ফোরাম’গঠন “সেবার ব্রতে চাকরি” — বাংলাদেশ পুলিশে টিআরসি নিয়োগ কার্যক্রম শুরু নব্বই দশকের ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী বন্যা মির্জার বাবা আর নেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন পেসার রুবেল হোসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির জবাবে চীনের পাল্টা ঘোষণা টাইম ম্যাগাজিনের প্রকাশিত বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাজ্যের ভিসা পেতে সমকামী সাজছেন অনেক অভিবাসীরা  ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ৩ লক্ষ টাকা ছিনতাই, গ্রেপ্তার ২ হোসেনপুরে বর্ষবরণে তাঁতীদলের ব্যতিক্রমী আয়োজন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপন

পণ্যের বিনিময়ে পণ্য, ৩শত বছরের পুরোনো শুঁটকি মেলা অনুষ্ঠিত

সংবাদ প্রকাশক:
  • Update Time : বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৩ Time View

 

খ,ম,জায়েদ হোসেন,নাসির নগর(ব্রাহ্মণবাড়ীয়া) প্রতিনিধি

 

পহেলা বৈশাখ বাংলা সনের প্রথম দিন যা বাঙালি জাতির অন্যতম প্রধান সার্বজনীন ও অসাম্প্রদায়িক লোক উৎসব। সব গ্লানি ভুলে নতুন সম্ভবনা ও সুখ -শান্তি কামনায় উদযাপিত হয় ব্যবসায়িদের শুভ আল- খাতা গ্রাহকদের করানো হয় মিষ্টিমুখ। পুরাতনকে ভুলে খোলেন নতুন খাতা।

নওয়াবী শাসনের প্রতিষ্ঠাতা ভারতবর্ষের উজ্জ্বল নক্ষত্র মুর্শিদকুলির খানের বংশধরের নাম অনুসারে কুলিকুন্ডা গ্রামের নামকরণ হয়। স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিদের  ধারণা প্রায় ৪শত বছর পূর্বে মুর্শিদকুলি খানের বংশধরেরা এখানে এসে বসতি স্থাপন করে। নাসিরনগর সদর ইউনিয়নরে একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রাম কুলিকুন্ডা।১৪ এপ্রিল ১ লা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ উদযাপন উপলক্ষে ১৫ এপ্রিল ২ রা বৈশাখ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার হাওর বেষ্টিত নাসিরনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুলিকুন্ডা গ্রামে দুই দিন ব্যাপী এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

পণ্যের বিনিময়ে পণ্য। এটি হল এ মেলার প্রধান বৈশিষ্ট। এই মেলার বিশেষ তাৎপর্য হল ঘরোয়া ভাবে উৎপাদিত শুঁটকির বিনিময় করা। এখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্বারা তৈরি করা বিভিন্ন ধরণের মাছের শুঁটকি,পিঠা,সন্দেশ এর পসরা বসিয়ে থাকেন। বিনিময় প্রথা এই শুঁটকি মেলার মূল বিষয়। যদিও বিনিময় প্রথা এই মেলার মূল উদ্দেশ্য! তথাপি টাকার বিনিময়ে এখানে শুটকি ক্রয়-বিক্রি করার সুবিধা আছে।

জানা যায় ভোর ৬টা হতে সকাল ১০টা পর্যন্ত চলে পণ্যের বিনিময়ে পণ্য বিনিময়। সকাল ১০টার পরই শুরু হয় দেশের বিভিন্ন স্থান হতে আগত ভোজন রসিকদের বাহারী শুঁটকি কেনার ধুম।

কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম থেকে আগত একজন শুঁটকি ক্রেতার সাথে কথা হয়, তিনি জানান, আমি আমার বাপ- দাদাদের মুখে এই শুঁটকি মেলার নাম শুনেছি কিন্তু সময় ও সুযোগের অভাবে আসতে পারিনি আলহামদুলিল্লাহ এবার আসতে পেরেছি। এসে যা দেখলাম তা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। আমার জীবনে এমন মেলা দেখিনি। তবে শুঁটকির দাম এখানে খুব বেশি।

ঢাকার তাঁতী বাজার থেকে আগত একজন ভোজন রশিক বলেন, আমি প্রতি বছর এই মেলায় আসি। আমার বাবাও আসত আমিও প্রতি বছর এই মেলায় আসি। বাবার হাত ধরেই এই মেলাতে আসা। এ বছর দাম একটু চড়া হলেও শুঁটকি প্রচুর উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী প্রায় তিনশ বছরেরও অধিক সময় ধরে এ মেলা বসছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শুঁটকি ব্যবসায়ী এ গ্রামে আসেন শুঁটকি বিক্রি করতে। পছন্দের শুঁটকি ক্রয় করতেও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে আসেন ভোজন রসিকরা। দুই শতাধিক নানান জাতের শুঁটকির পসরা নিয়ে বসেন দোকানিরা। এসব পসরায় থাকে বোয়াল, গজার, শোল, বাইম, লইট্টা, পুটি ও টেংরা, লোনা ইলিশ ও দেশীয় মাছের ডিমউল্লেখযোগ্য। এমনকি  সব জাতের শুঁটকি পাওয়া যায়। তবে দেশী মাছের শুঁটকির প্রাধান্যই বেশী।

মেলায় নাসিরনগর ও পার্শ্ববর্তী এলাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, সিলেট ও সুনামগঞ্জের ব্যবসায়ীরা শুঁটকি নিয়ে আসেন। সামুদ্রিক অনেক বিরল জাতের মাছের শুঁটকি ছাড়াও ইলিশ ও কার্প জাতীয় বিভিন্ন মাছের ডিমের শুটকি পাওয়া যায় এই মেলায়।
কুলিকুন্ডা গ্রামের বাসিন্দা মাসুক মিয়া বলেন, আমাদের বাপ দাদা পইরদাদা আমলেও এ শুঁটকি মেলা ছিল এখনও আছে। শত শত বছরের বেশী সময় ধরে নিয়মিত ভাবে এই মেলা বসছে। স্থানীয় ভাবে উৎপাদিত আলু, ডাল,সরিষা, পেয়াজ,রসুনসহ এলাকার কৃষকরা তাদের নানা পণ্যের বিনিময়ে শুঁটকি ক্রয় করেন।

এছাড়াও মেলায় গৃহস্থালী পণ্যসহ মুড়ি মুড়কি,খেলনা,  কসমেটিকস সামগ্রী, মাঠির তৈরি তৈজসপত্র সহ বিভিন্ন ধরনের খেলনা ও কাঠের সামগ্রী বিক্রি হয়।

মেলায় আসা ক্রেতা মোঃ ইসলাম উদ্দিন বলেন, প্রাচীনকালে যখন কাগজের মুদ্রা প্রচলন হয়নি ঠিক তখন থেকে কৃষকরা তাদের সদ্য উৎপাদিত ফসলের বিনিময়ে বেচাকেনা করতেন। বিশেষকরে শুঁটকি ছিল তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য। তবে কালের বিবর্তনে এই মেলার জৌলুস অনেকটাই হারিয়েছে। শুধু তাই নয় হারিয়েছে চিরচেনা বিনিময় প্রথাও। তারপরেও ঐতিহ্য হিসেবে এই মেলায় শুঁটকি কেনার জন্য এসেছি। যেমনটি বাবার হাত ধরে এই মেলায় আসতাম।
মেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি জানান, বিনিময় প্রথার ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্যে আজও অল্প পরিসরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে কিছুক্ষণের জন্যে পণ্যবিনিময়ের মধ্যে দিয়ে শুঁটকি বেচাকেনা শুরু হয়। পরে চলে টাকার অর্থে বেচাকেনা।

এদিকে একই দিনে নাসিরনগর উপজেলা সদরের লঙ্গণ নদীর তীরেও বসেছে বৈশাখী মেলা  “বিনিময় প্রথা” অর্থাৎ পণ্যের বিনিময়ে পণ্য। বেলা বাড়ার সাথে সাথে দিনব্যাপী চলে মেলার কেনাকাটা। এখানে বিক্রি হয় মৃৎশিল্পীদের হাতের তৈরি মাটির হাঁড়ি ও তৈজসপত্র। স্থানীয় কুমারদের হাতের তৈরি হাড়িঁ,পাতিল,কলস,ঝাঁঝর,থালা,ঘটি,বদনা,বাটি,পুতুল ও প্রদীপসহ বিভিন্ন ধরণের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য।

এ ব্যাপারে উপজেলা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, মেলাকে কেন্দ্র করে যাতে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে না পারে সে জন্য প্রয়োজনীয় পুলিশ মোতায়েন আছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
প্রতিদিনের দৃশ্যপট ২০২৪
Theme Customized BY Kh Raad (FriliX Group)
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com