
রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
দীর্ঘদিনের দুঃখ-দুর্দশা, অনিশ্চয়তা আর হয়রানির পর অবশেষে স্বস্তির মুখ দেখেছেন সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ভূমিহীন প্রান্তিক কৃষকরা। নানা বাধা-বিপত্তি, মামলা ও প্রভাবশালীদের চাপ উপেক্ষা করে প্রশাসনের সহায়তায় তারা তাদের রোপণ করা ধান ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। এতে কৃষক পরিবারগুলোর মাঝে ফিরে এসেছে স্বস্তির হাসি।
জানা গেছে, রায়গঞ্জ উপজেলার সোনাইডাঙ্গা বিলে বহুদিন ধরে চাষাবাদ করে আসছিলেন একাধিক ভূমিহীন পরিবার। তবে চলতি মৌসুমে ধান পাকার সময় স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি তাদের ফসল কাটায় বাধা দেয়। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং একাধিক হামলার অভিযোগও ওঠে। এতে কৃষকরা চরম আর্থিক ক্ষতি ও মানসিক চাপের মধ্যে পড়েন।
এই পরিস্থিতিতে গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে রায়গঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। তারা তাদের দুর্দশার কথা তুলে ধরে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর দ্রুত পদক্ষেপ নেয় উপজেলা প্রশাসন।
রোববার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল খালেক পাটোয়ারী উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ভূমিহীন কৃষকদের ধান কাটার অনুমতি প্রদান করা হয়।
প্রশাসনের তদারকি এবং থানা পুলিশের উপস্থিতিতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে ধান কাটা সম্পন্ন হয়। এতে কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে এবং দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল খালেক পাটোয়ারী বলেন,“আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন সর্বদা সতর্ক রয়েছে।”
ভূমিহীন সংগঠনের নেতারা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, এ ধরনের দ্রুত ও মানবিক পদক্ষেপ তাদের জীবনে বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে। ভবিষ্যতেও এমন সহায়তা অব্যাহত থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।
উল্লেখ্য,সোনাইডাঙ্গা বিলের ২৮ দশমিক ৩৪ একর জমি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত। একই গ্রামের জোতদাররা জালিয়াতির মাধ্যমে নিজেদের দাবি করে ১৮ দশমিক ৯১ একর বিভিন্ন নামে রেকর্ড করে নিয়েছে। বাকি ৯ দশমিক ৪৩ একর খাস জমি হিসেবে ভূমিহীনরা চাষাবাদ করে আসছে ।