
ন্যাশনাল ডেস্ক
ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)-এর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগে মামলা করেছে ‘ভিআইডি’ নামে এক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার একটি আদালতে তাদের বিরুদ্ধে এ মামলা করে মায়ামিভিত্তিক ওই কোম্পানিটি।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) মার্কিন সংবাদমাধ্যম টিএমজেড এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, গত বছরের অক্টোবরে ভেনেজুয়েলা ও পুয়ের্তো রিকোর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার দুটি প্রীতি ম্যাচকে কেন্দ্র করে এই মামলার সূত্রপাত।
ভিআইডি নামক প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৭০ লাখ ডলারের বিনিময়ে এই ম্যাচ দুটির একক স্বত্ব কিনে নিয়েছিল। চুক্তির প্রধান শর্ত ছিল, যদি কোনো চোট না থাকে তবে মেসিকে প্রতিটি ম্যাচে অন্তত ৩০ মিনিট মাঠে থাকতে হবে।
তবে ভিআইডির দাবি, ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ম্যাচে মেসি এক মুহূর্তের জন্যও মাঠে নামেননি, বরং গ্যালারিতে বসে খেলা দেখেছেন। অথচ হার্ড রক স্টেডিয়ামে মেসির পরিবারের জন্য যে বিশেষ সুইট বরাদ্দ করা হয়েছিল, তার খরচও বহন করেছিল এই আয়োজক প্রতিষ্ঠান।
ভিআইডির এই অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে একটি বিশেষ ঘটনার কারণে। ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে জাতীয় দলের হয়ে না নামলেও এর ঠিক পরদিনই ক্লাব ইন্টার মায়ামির হয়ে আটলান্টা ইউনাইটেডের বিপক্ষে মাঠে নামেন মেসি এবং জোড়া গোল করেন।
আয়োজকদের মতে, এটি স্পষ্টতই প্রমাণ করে— মেসি খেলার মতো শারীরিক অবস্থায় ছিলেন এবং কোনো বিশেষ কারণে ইচ্ছাকৃতভাবেই প্রীতি ম্যাচটি এড়িয়ে গেছেন, যা সরাসরি চুক্তি লঙ্ঘন।
আইনি নথিতে পুয়ের্তো রিকোর বিপক্ষে ম্যাচটি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। ম্যাচটি শিকাগোর বিশাল সোলজার ফিল্ডে হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা ফোর্ট লডারডেলের ছোট চেজ স্টেডিয়ামে সরিয়ে নেওয়া হয়।
আয়োজকদের দাবি, ভেন্যু পরিবর্তনের ফলে ধারণক্ষমতা কমে যাওয়ায় তারা ১০ লাখ ডলারের বেশি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এএফএ নিরাপত্তা ঝুঁকির দোহাই দিলেও শিকাগো কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল টিকিট বিক্রি কম হওয়া।
এই ক্ষতি পুষিয়ে দিতে চীনে অন্য একটি ম্যাচ আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিলেও ব্যস্ত সূচির অজুহাতে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তা রক্ষা করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতির মুহূর্তে এমন আইনি লড়াই আর্জেন্টিনার দলীয় মনোবলে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে কি না, সেটিই এখন ফুটবল বিশ্বের বড় উদ্বেগের বিষয়। তবে এখন পর্যন্ত মেসি বা এএফএ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই মামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।