
পারভেজ বাঙালী,চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ। আজ মঙ্গলবার বিকেলে এই রায় ঘোষণার পরপরই সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রায়ের প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে অবরোধ সৃষ্টি করেন তার অনুসারীরা।
বিক্ষুব্ধ কর্মী-সমর্থকরা সীতাকুণ্ডের ছোট দারোগারহাট এলাকায় জড়ো হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক আটকে দেন। এছাড়া বড়দারোগারহাট ও বাড়বকুণ্ডে মহাসড়কের ওপর কাঠ ফেলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এর ফলে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানবাহনের জট তৈরি হয়, যা চরম ভোগান্তিতে ফেলে সাধারণ যাত্রীদের। পাশাপাশি উপজেলার ভাটিয়ারি এবং কুমিরায় তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের দাবি, আসলাম চৌধুরী একজন ত্যাগী এবং দীর্ঘদিন কারাভোগ করা জনপ্রিয় নেতা। তারা আশা করেছিলেন আদালত তাকে শপথ নেওয়ার অনুমতি দেবেন, কিন্তু এই রায় তাদের হতাশ করেছে। একে ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে তারা অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে তাকে শপথ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান। রাজপথের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দলটির অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
“জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন না ঘটলে রাজনীতিতে মন খারাপ হওয়াটা স্বাভাবিক। সীতাকুণ্ডের মানুষ সবসময় আমার পাশে ছিল এবং এই কঠিন সময়েও আছে, সেজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই। আমরা পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পর রিভিউ আবেদন করব। আইনি লড়াইয়ে চূড়ান্ত বিজয় আমাদেরই হবে।”
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মোরছালিন বলেন, সাধারণ জনগণ এই রায় মেনে নিতে পারছে না বলেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমে এসেছে। দলগতভাবে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো কর্মসূচি দেওয়া হয়নি। আজ সন্ধ্যায় দলীয় ফোরামের বৈঠক শেষে পরবর্তী আন্দোলনের রূপরেখা ও কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান তিনি।