
সলঙ্গা (সিরাজগঞ্জ )প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা এলাকায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ, গ্রিল কাটার, চাপাতি, রশি, ত্রিপল, লোহার রড, লাঠি ও ইটের টুকরাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
পুলিশ জানায়, জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম, বিপিএম (বার)-এর নির্দেশনায় কয়েকদিন ধরে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রটির ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছিল। সম্প্রতি সিরাজগঞ্জ ও আশপাশের জেলায় সংঘটিত ডাকাতি ও চুরির ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে চক্রটিকে গ্রেফতারের পরিকল্পনা নেয় পুলিশ।
এর আগে গত ২৪ জুন ভোর রাতে সলঙ্গা থানা এলাকায় মহাসড়কে চক্রটির গতিবিধি শনাক্ত হলেও তারা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে শুক্রবার রাতে পুনরায় তাদের অবস্থান নিশ্চিত হলে সলঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে একাধিক আভিযানিক দল হাটিকুমরুল ও আশপাশের কৌশলগত স্থানে অবস্থান নেয়।
পুলিশের দাবি, ডাকাত দলকে বহনকারী ট্রাকটি হাটিকুমরুল এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ থামার সংকেত দিলেও চালক তা অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করে। একপর্যায়ে পুলিশ ও সিভিল ট্রাকের মাধ্যমে ব্যারিকেড সৃষ্টি করা হলে ডাকাত দলের ট্রাকটি পেছনে থাকা পুলিশের পিকআপে ধাক্কা দেয়। এতে কনস্টেবল রুহুল গুরুতর আহত হন এবং পুলিশের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পরবর্তীতে ট্রাক থেকে ডাকাত দলের সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করলে একজনকে ঘটনাস্থলেই গ্রেফতার করা হয়। আহত কনস্টেবল রুহুলকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি নিজের নাম সুরুজ (বাড়ি রংপুর) বলে পরিচয় দেন এবং ডাকাত চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের। তিনি চক্রের অন্যান্য সদস্যদের সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে পলাতক সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় ৮ জন এজাহারভুক্ত আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।