
রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ )প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘ধানগড়া উচ্চ বিদ্যালয়’। ৭৫ বছরের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক এই বিদ্যালয়টি অত্র অঞ্চলের শিক্ষার মান উন্নয়নে এক অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে বর্তমান সময়ের চাহিদা ও শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্থানীয় এলাকাবাসী, অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়টিকে সরকারি ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বিদ্যালয়টিকে সরকারীকরণ করা হলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
প্রতি বছর এই বিদ্যালয় থেকে শত শত শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ঈর্ষণীয় ফলাফল অর্জন করছে। সরকারি সুবিধা পেলে এই সাফল্যের ধারা আরও বৃদ্ধি পাবে। ধানগড়া ইউনিয়ন ও আশেপাশের এলাকার সাধারণ ও নিম্ন-আয়ের পরিবারের সন্তানদের জন্য সরকারি মানের শিক্ষা নিশ্চিত করার একমাত্র উপায় এই বিদ্যালয়ের সরকারীকরণ।
সরকারি বেতন কাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হলে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের দীর্ঘমেয়াদী সেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে, যা শিক্ষার্থীদের একাডেমিক মানোন্নয়নে সহায়ক হবে। সরকারি নিয়ন্ত্রণে এলে বিদ্যালয়টির অবকাঠামো উন্নয়ন, ল্যাবরেটরি আধুনিকায়ন এবং ডিজিটাল ক্লাসরুম স্থাপনে সরকারি বড় ধরনের অনুদান পাওয়া সহজতর হবে। ৭৫বছর পূর্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি প্রমাণ করেছে এটি অত্র অঞ্চলের কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং একটি শক্তিশালী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। একে সরকারি পর্যায়ে উন্নীত করা হলে এই ঐতিহ্য দীর্ঘস্থায়ী হবে।
স্থানীয় অভিভাবক ও প্রবীণ নাগরিকদের অভিমত, “ধানগড়া উচ্চ বিদ্যালয় আমাদের এই অঞ্চলের শিক্ষা বিস্তারের মূল স্তম্ভ। বর্তমান সময়ে মানসম্মত শিক্ষার জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা জরুরি। বিদ্যালয়টি সরকারীকরণ হলে তা সিরাজগঞ্জের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেবে।”
বর্তমানে বিদ্যালয়টি পরিচালনা পর্ষদ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের আশা, সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিদ্যালয়টির দীর্ঘ ইতিহাস, ভৌগোলিক অবস্থান এবং শিক্ষার মানের প্রতি লক্ষ্য রেখে একে দ্রুত সরকারীকরণ করার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে।
অত্র অঞ্চলের শিক্ষার ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে এবং পিছিয়ে পড়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিকাশে ধানগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সরকারীকরণ এখন সময়ের দাবি।