
রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার শালিয়াগাড়ী সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে মুরগির পঁচা বিষ্ঠা স্তূপ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এতে সড়কজুড়ে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারী, যানবাহনের চালক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। জনবহুল এলাকায় এভাবে মুরগির বর্জ্য ফেলে রাখায় জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শালিয়াগাড়ী বাজারের ডিম ব্যবসায়ী আলহাজ্ব দীর্ঘদিন ধরে সরকারি রাস্তার পশ্চিম পাশে মুরগির পঁচা বিষ্ঠা ফেলে রাখছেন। বর্জ্যের স্তূপ থেকে প্রতিনিয়ত দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, রাস্তার পূর্ব পাশে অবস্থিত ধামাইনগর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, ধামাইনগর ইউনিয়ন পরিষদ এবং একটি মসজিদ। এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন শত শত মানুষ যাতায়াত করলেও দুর্গন্ধের কারণে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গরম আবহাওয়া ও বৃষ্টির সময় মুরগির বিষ্ঠা পচে দুর্গন্ধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। অনেক সময় দুর্গন্ধ আশপাশের বসতবাড়িতেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে শিশু, বৃদ্ধ ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীরা বেশি সমস্যায় পড়ছেন।
স্কুল ও কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীরা জানান, প্রতিদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের সময় শালিয়াগাড়ী বাজার এলাকায় পৌঁছালে তীব্র দুর্গন্ধের কারণে তাদের নাক-মুখ চেপে চলাচল করতে হয়। অনেক সময় দুর্গন্ধে বমি বমি ভাব ও অস্বস্তি অনুভব করেন তারা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার পথে এমন পরিবেশ তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।
সড়ক ব্যবহারকারী কয়েকজন পথচারী বলেন, “শালিয়াগাড়ী বাজার এলাকায় পৌঁছালেই দুর্গন্ধে নাক-মুখ চেপে চলতে হয়। স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ইউনিয়ন পরিষদ ও মসজিদের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার পাশে এভাবে মুরগির বিষ্ঠা ফেলে রাখা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
অভিযুক্ত ডিম ব্যবসায়ী আলহাজ্ব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি ব্যবসার প্রয়োজনে সাময়িকভাবে সেখানে মুরগির বিষ্ঠা রেখেছিলাম। কারও ভোগান্তির কারণ হলে দ্রুত সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করব। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে কেউ আগে আমার সঙ্গে কথা বলেনি। ভবিষ্যতে যাতে জনসাধারণের কোনো সমস্যা না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকব।”
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তুহিন আলম বলেন, “উন্মুক্ত স্থানে মুরগির বিষ্ঠা বা খামারের বর্জ্য ফেলে রাখা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিবেশ দূষণের শামিল। অভিযোগ পেলে অথবা তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, “সরকারি রাস্তার পাশে এভাবে মুরগির বিষ্ঠা ফেলে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ইউনিয়ন পরিষদ, মসজিদ এবং শিক্ষার্থীদের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে মুরগির বর্জ্য ফেলে রাখার কারণে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। তাই দ্রুত এসব বর্জ্য অপসারণ এবং ভবিষ্যতে যাতে কেউ সরকারি রাস্তার পাশে মুরগির বিষ্ঠা ফেলতে না পারে, সে জন্য প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের মতে, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি আরও বাড়বে এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।