
রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ )প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার অত্যন্ত ব্যস্ত ও জনবহুল জয়ানপুর সড়কের অংশবিশেষে চলছে বিদ্যুতায়নের কাজ। তবে এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ঘিরেই দানা বাঁধছে তীব্র অসন্তোষ। অভিযোগ উঠেছে, গ্রামীণ এই সড়কটির দীর্ঘদিনের সবুজায়নকে ধ্বংস করে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্টের আয়োজন চলছে। ইতিমধ্যেই জয়েনপুর চৌরাস্তা থেকে (ইটভাটা মোড়) ফজর আলীর বাড়ি পর্যন্ত সড়কের পাশে ১০টি বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে, যার ধারাবাহিকতায় এবার জয়েনপুর চৌরাস্তায় (ইটভাটা মোড়) কাটতে হবে একটি বিশাল আকৃতির পাকড় গাছ। আর এই গাছটি কাটার পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষি শ্রমিকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার বিকেলে (৩০মে) সরে জমিন গিয়ে দেখা যায়, রায়গঞ্জের জয়ানপুর সড়কের দুই পাশে রয়েছে অসংখ্য গাছ, যা দীর্ঘ বছর ধরে এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও শীতল পরিবেশ বজায় রেখেছে। বিশেষ করে এই সড়কে রয়েছে বিশাল আকৃতির একটি পাকড় গাছ ।গাছটি কেবল একটি গাছ নয়, বরং স্থানীয় খেটে খাওয়া মানুষের একমাত্র আশ্রয়স্থল।
মাঠে কাজ করা আব্দুল মালেকসহ একাধিক শ্রমিক ক্ষোভ ও আক্ষেপ করে বলেন ,”তীব্র গরমে মাঠে কাজ করতে করতে যখন আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়ি, তখন এই পাকড় গাছের নিচে এসে বুক ভরে নিঃশ্বাস নিই। একটু বিশ্রাম নিয়ে আবার কাজে ফিরি। এই গাছটি কেটে ফেলা হলে আমাদের মাথা গোঁজার কোনো ছায়া থাকবে না। আমাদের মতো গরিব শ্রমিকদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হবে।”
স্থানীয়রা বিদ্যুতের খুটি বসানোর সময় পরিবেশ রক্ষা করে বিকল্প উপায়ে বিদ্যুতায়নের দাবি জানালেও তাতে খুব একটা সাড়া মেলেনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফজর আলীর পুত্রবধূ বলেন, এই বিদ্যুতের লাইন করতে হলে একদিকে রাস্তার গাছ কাটতে হবে অন্যদিকে আমাদের বাড়ির উপর দিয়ে লাইন নিতে হবে। এজন্য আমার শ্বশুর লাইন করতে বাধা দিয়েছে। কিন্তু পল্লী বিদ্যুৎ অফিস তারা সবুজায়ন বা গাছ কর্তন করে হলেও এই এলাকায় বিদ্যুতায়নের কাজ সম্পন্ন করতে এখনো বদ্ধপরিকর।
ধানগড়া ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ড এর সদস্য পদপ্রার্থী আমিনুল ইসলাম তালুকদার বলেন, উন্নয়নের নামে প্রকৃতির এমন অবক্ষয় মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ। তার মতে, বিদ্যুৎ অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু একটি অঞ্চলের ফুসফুসখ্যাত বিশাল আকৃতির গাছ কেটে পরিবেশ ধ্বংস করে এই উন্নয়ন কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
আটঘরিয়া গ্রামের পাপ্পু চন্দ্র বলেন, পরিবেশের ক্ষতি না করেও বিকল্প নকশায় বিদ্যুৎ লাইন নেওয়া সম্ভব । এজন্য বিদ্যুৎ অফিসকে বিকল্প ডিজাইন করতে হবে। মাদ্রাসা শিক্ষক হাফেজ মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম বলেন, এই গাছ কাটার সিদ্ধান্ত বাতিল না হলে আগামীতে আরও বড় ধরনের সামাজিক অসন্তোষ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রকৃতি ও মানুষের জীবন-জীবিকার মেলবন্ধন রক্ষা করে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ কোনো পরিবেশবান্ধব সমাধান খুঁজে বের করবে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১ এর ভুইয়াগাতী জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মোঃ নেজামুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। পরিবেশের জন্য সবুজায়ন অবশ্যই প্রয়োজন রয়েছে।ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আপনাদের জানানো হবে। সরেজমিন পরিদর্শন করে নকশায় ত্রুটি থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।