
ন্যাশনাল ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছে । সোমবার (২০ এপ্রিল) ঘোষিত এই তালিকায় ৩৬ জনের নাম থাকলেও, একটি নাম ঘিরেই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক—গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর সুবর্ণা সিকদার (ঠাকুর)।
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র বলছে, সুবর্ণা সিকদার দীর্ঘদিন ধরে -এর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। অথচ তিনি এবার বিএনপির মনোনয়নে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হতে যাচ্ছেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিস্ময় ও ক্ষোভ ছড়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে।
কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের ২০২৩ সালের ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে তার নাম রয়েছে বলে জানা গেছে। এতে করে প্রশ্ন উঠেছে—তিনি কি আনুষ্ঠানিকভাবে দল পরিবর্তন করেছেন, নাকি এখনো আগের দলেই রয়েছেন?
বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে এই মনোনয়ন নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা শরিফুল ইসলাম রোমান সামাজিক মাধ্যমে হতাশা প্রকাশ করে লিখেছেন, “দীর্ঘদিন রাজপথে থেকে আমাদের বোনদের কী লাভ হলো, যদি আওয়ামী লীগের নেত্রীকেই বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়?”
অন্যদিকে, সামাজিক মাধ্যমে আরও অনেকে দাবি করছেন—সুবর্ণা সিকদার আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেননি। ফলে কোনো রাজনৈতিক ত্যাগ-সংগ্রাম ছাড়াই এমন মনোনয়ন পাওয়া দলীয় কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়াচ্ছে।
আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ মহলও বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছে। তাদের মতে, এটি বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ।
সুবর্ণা সিকদার ওড়াকান্দির ঠাকুরবাড়ির সদস্য এবং মতুয়া সম্প্রদায়ভুক্ত। তিনি পেশায় একজন শিক্ষক। তবে এ বিষয়ে তার ব্যক্তিগত বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দল পুনর্গঠনের সময় এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তৃণমূলে ক্ষোভ বাড়লে তা ভবিষ্যৎ নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।
একটি মনোনয়ন ঘিরে শুরু হওয়া এই বিতর্ক এখন বড় প্রশ্নে পরিণত হয়েছে—দলীয় আদর্শ ও তৃণমূলের মূল্যায়ন কি উপেক্ষিত হচ্ছে? তথ্য সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন।