
মোঃ আব্দুর রহীম মিঞা, ভূঞাপুর, টাঙ্গাইল :
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ব্যক্তিগত প্রচার না করার দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো ধরনের গ্রুপিং বা বিভক্তি যেন তৈরি না হয় সেদিকে লক্ষ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন গোপালপুর-ভূঞাপুর,টাঙ্গাইল দুই আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু ।
সম্প্রতি স্কুল ও এতিমদের মধ্যে খেলার সামগ্রী বিতরণ করতে এসে দলীয় কার্যালয়ে উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপকালে এমন নির্দেশনা দিলেন তিনি। তিনি বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, গ্রুপিং কিংবা অভ্যন্তরীণ কোন্দল কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। দলের ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে সকলকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। সোমবার বিকেলে দলীয় কার্যালয়ে এমন বার্তাই দিলেন জাতীয় সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু।
সংসদ সদস্য বলেন স্থানীয় নির্বাচন অনেক দূরে । নির্বাচনের সিডিউল ঘোষিত হলে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তার আগে কোন অবস্থাতেই এককভাবে ব্যক্তিগত প্রচারণা চালানো যাবে না। সকলেই ঐক্যভাবে দলের প্রচার চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। দলের সিদ্ধান্তের বাইয়ে না যাওয়াও পরামর্শ দেওয়া হয়। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ ব্যক্তিস্বার্থে বিভক্তি সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
উপস্থিত নেতাকর্মীরা আশা প্রকাশ করেন, সংসদ সদস্যের এ নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে দলকে আরও সুসংগঠিত করবে এবং নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে বইতে শুরু করেছে নতুন সুর—ঐক্যের সুর। দীর্ঘদিন ধরে নানা সমীকরণ, চললেও দলের ভিতরে প্রকাশ্যে কোনো গ্রুপিং নেই । উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পর্যায়ে যে যার মত জানান দিচ্ছে নির্বাচনে অংশগ্রহণে ইচ্ছা প্রকাশের। যার ফলশ্রুতিতে তৃণমূল পর্যায়ে দ্বিদা-ভিবক্ত দেখা দেওয়া শঙ্কা থেকে এবার স্পষ্ট বার্তা দিলেন সংশ্লিষ্ট আসনের সংসদ সদস্য। তার কড়া হুঁশিয়ারি—দলের ভেতরে কোনো ধরনের গ্রুপিং নয়, বিভক্তি নয়; বরং প্রয়োজন ঐক্য, শৃঙ্খলা ও সম্মিলিত প্রয়াস।
রাজনীতির মাঠে গ্রুপিং নতুন কিছু নয়। স্থানীয় নির্বাচন এলেই দলীয় প্রার্থিতা ঘিরে বিভিন্ন পক্ষ-বিপক্ষ গড়ে ওঠে, তৈরি হয় অদৃশ্য বিভাজন। সেই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে সংসদ সদস্যের এ বার্তা যেন রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ধরনের শুদ্ধি অভিযানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দলের ভেতরে বিভাজন সৃষ্টি করে কেউ যদি ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার বক্তব্যে ছিল দৃঢ়তা, ছিল সতর্কবার্তা—একইসাথে ছিল দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার আহ্বান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের বিষয় নয়; এটি দলীয় শক্তি, সংগঠন ও নেতৃত্বের পরীক্ষাও বটে। এ নির্বাচনে দলীয় কোন্দল বা গ্রুপিং অনেক সময় বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। ফলে সংসদ সদস্যের এ ধরনের অবস্থান দলীয় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ভূঞাপুরের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যেও এ বার্তা নিয়ে চলছে আলোচনা। কেউ দেখছেন এটিকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে, কেউবা মনে করছেন—এটি বাস্তবা। কারণ দীর্ঘদিনের গড়ে ওঠা বিভাজন রাতারাতি দূর করা সহজ নয়।
তবে আশার কথাও রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, শক্ত অবস্থান এবং নিয়মিত তদারকি থাকলে দলীয় ঐক্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব। বিশেষ করে তরুণ কর্মীদের মধ্যে এ বার্তা নতুন উদ্দীপনা তৈরি করতে পারে।
স্থানীয় রাজনীতিতে সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখা শুধু দলের জন্য নয়, বরং সাধারণ মানুষের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনই পারে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে এবং উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে।
ভূঞাপুরে সংসদ সদস্যের এ কড়া হুঁশিয়ারি তাই শুধু একটি রাজনৈতিক বক্তব্য নয়—এটি একটি বার্তা, একটি দিকনির্দেশনা। এখন দেখার বিষয়, মাঠপর্যায়ে এ বার্তা কতটা কার্যকর হয় এবং আসন্ন নির্বাচনে এর প্রতিফলন কতটা দেখা যায়।