
শ্যালো মেশিন ছাড়া তেল বিক্রি করবেন না বলে ঘোষণার পর সহকারী কমিশনার ( ভূমি) রাফিউর রহমানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন রৌমারীর কৃষকরা। এসময় এসিল্যান্ডকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়েন বিক্ষোভকারীরা।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে কুড়িগ্রামের রৌমারী ব্রহ্মপুত্র ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, শুক্রবার দুপুর থেকে ডিজেল তেল বিক্রির কথা ছিল। পাম্পে উপস্থিত হয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাফিউর রহমান শ্যালো মেশিন ছাড়া তেল বিক্রি করবেন না বলে মাইকে ঘোষণা দেন। ঘোষণার পর সাধারণ কৃষকরা বিক্ষোভে শুরু করেন। এসময় এসিল্যান্ডকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন বিক্ষুব্ধ কৃষকরা। পরে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা এসিল্যান্ডকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এদিকে অবস্থা বেগতিক দেখে কৃষকদের কাছে ডিজেল বিক্রি করতে বাধ্য হয় তেল পাম্প কর্তৃপক্ষ।
এতে কৃষকরা ৫০০ টাকায় ডিজেল নিলেও ওজনে হচ্ছে মাত্র ৪ থেকে সোয়া ৪ লিটার। কৃষকদের অভিযোগ, পাম্প মালিক পরিমাণে কম দিচ্ছেন। পাশাপাশি পাম্প মালিক স্বজনপ্রীতি করে তেল বিক্রি করছেন।
পাম্পে দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসার এবং সহকারী কমিশনার কোনও ব্যবস্থা নেননি বলে কৃষকদের অভিযোগ।
ব্রহ্মপুত্র ফিলিং স্টেশন ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হাসেম বলেন, কৃষকরা কিছুটা উত্তেজিত হয়েছিল। পরে ডিজেল দেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। কোনও কৃষকের কাছ থেকে ডিজেলের দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে না এবং পেট্রোল বিক্রিতে কোনও ধরনের স্বজনপ্রীতি হয়নি।
ওজনে ডিজেল কম হওয়ার বিষয় জানতে চাইলে রৌমারী ব্রহ্মপুত্র ফিলিং স্টেশনের দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসার মনিরুল ইসলাম বলেন, পেট্রোল মেপে দেখেছি ওজনে সঠিক রয়েছে। কিন্তু ডিজেল মেপে দেখা হয়নি। অভিযোগ পেলে ডিজেল মেপে দেখবো।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রাফিউর রহমান বলেন, কৃষকরা তেল নিতে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। শ্যালো মেশিন এবং জেনারেটর ছাড়া ডিজেল দেওয়া হবে না বলে মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়। এখানে অসংখ্য মানুষ ছিলেন। এ সময় কে-বা কারা আমার দিকে ইটের টুকরো ছুড়ে মারেন? পরে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পারেননি।