
পবিত্র মাহে রমজানের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসে রাজধানীর বাজারগুলোতে মাছ ও মাংসের দামে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম কিছুটা কমলেও অপরিবর্তিত রয়েছে গরুর মাংসের দাম।
তবে সাধারণ ক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে মাছের বাজার; বর্তমানে ২০০ টাকার নিচে মিলছে না কোনো মাছ।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল, ধানমন্ডি ও রায়েরবাজার এলাকা ঘুরে নিত্যপণ্যের এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা কমেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা। একইভাবে কমেছে সোনালি মুরগির দামও; গত সপ্তাহের ৩২০ টাকার পরিবর্তে এখন তা পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ টাকায়। অন্যদিকে, গরুর মাংসের দাম গত সপ্তাহের মতোই প্রতি কেজি ৮০০ টাকা দরে স্থিতিশীল রয়েছে।
মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, তুলনামূলক কম দামি হিসেবে পরিচিত পাঙাশ ও তেলাপিয়ার দামও এখন সাধারণের নাগালের বাইরে। প্রতি কেজি পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া অন্যান্য মাছের মধ্যে রুই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, মৃগেল ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা, দেশি টেংরা ৪৫০ টাকা, বেলে ২৫০ টাকা, বাইন ৬০০ টাকা, চিংড়ি ৯০০ টাকা, পাবদা ৪০০, কই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, শিং ৪০০শ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, সইল ৭০০ টাকা, টাকি ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে চিংড়ির দাম বেশি দেখা গেছে। আকার ও জাতভেদে প্রতি কেজিতে খরচ করতে হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা।
মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটে বাজার করতে আসা এক ক্রেতা আক্ষেপ করে বলেন, আগে পাঙাশ ও তেলাপিয়া ছিল আমাদের মতো সাধারণ মানুষের ভরসা। এখন সেগুলোর দামও ২০০ টাকার ওপরে। রুই বা কাতলার কথা তো চিন্তাই করা যায় না। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে আমরা মাছ কিনব কীভাবে?
তবে মুরগির বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম কমেছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
রায়েরবাজার এলাকার এক মুরগি বিক্রেতা বলেন, বাজারে এখন মুরগির পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে, কোনো সংকট নেই। এ কারণেই গত সপ্তাহের তুলনায় দাম কিছুটা কমেছে।