
দৃশ্যপট ডেস্ক:
বিগত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প দেখলো বাংলাদেশ। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০ টা ৩৯ মিনিটে ঢাকাসহ সারাদেশব্যাপী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ৭ থেকে ৮ সেকেন্ড স্থায়ীত্বের এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭ রিখটার স্কেল।
ভূমিকম্প গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবায়েত কবির জানান, হিরোসিমা, নাগাসাকিতে ফেলা একটি বোমা যে শক্তি রিলিজ করে, আজকের ভূমিকম্প সেই মাত্রার শক্তি রিলিজ করেছে। এটির উত্পত্তিস্থল নরসিংদীর মাধবদীতে।
এদিকে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল দফতরকে অবিলম্বে মাঠপর্যায়ে নেমে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারে উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
এর আগে সকাল ১০টা ৩৯ মিনিটে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তীব্র ভূমিকম্প অনুভূত হয়। আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসে হাজারো মানুষ।
ভূকম্পনের এই ঘটনায় সারাদেশে এখন পর্যন্ত ৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। বংশাল থানার ডিউটি অফিসার জানান, কসাইতলীতে পাঁচ তলা ভবনের রেলিং ভেঙে পড়লে তিনজন পথচারি নিহত হন। নিহতদের মরদেহ সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মিটফোর্ড) রয়েছে।
অপরদিকে নারায়ণঞ্জের রূপগঞ্জে ভূমিকম্পে দেয়াল ধসে ফাতেমা নামের এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় নবজাতকের মা কুলসুম বেগম ও প্রতিবেশী জেসমিন বেগম আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতাসহ এর আশপাশে মৃদু ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে।
কলকাতা মহানগরীর পাশাপাশি এর আশপাশের এলাকার বাসিন্দারাও হালকা কম্পন অনুভব করেছেন। ফ্যান ও দেয়ালে ঝোলানো জিনিসপত্র সামান্য দুলতে দেখা গেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক বাসিন্দা ভূমিকম্পের মুহূর্তের ভিডিও ও ছবি শেয়ার করেছেন, যেখানে মানুষকে বাড়ি-অফিস থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে দেখা যায়।