সিরাজগঞ্জ পৌর তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিন মহল্লাবাসীর মধ্যে তিন ধরে চলা সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। এ সময় বাড়িঘর ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
রোববার (১৬ নভেম্বর) থেকে শুরু করে মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) গভীর রাত পর্যন্ত হোসেনপুর, ক্রসবার বাঁধ ও মালশাপাড়া মহল্লাবাসীর মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আহত ২৬ জনকে শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মালশাপাড়া ও হোসেনপুর মহল্লাবাসীর যুবকদের মধ্যে কয়েকদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরই জের ধরে রোববার সকাল থেকে মঙ্গলবার মধ্যরাত পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষকারীরা বাটুল নিক্ষেপ, ডিজে লাইটসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। এসময় অনেক বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এছাড়া জেলা মৎস্য অফিসের বেশ কয়েকটি জানালাসহ অনেক ক্ষতিসাধন হয়েছে।
সংঘর্ষ থামাতে যৌথ বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলেও আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তারা। বিশেষ করে মঙ্গলবার রাতে চান্দালি মোড় এলাকায় ডিজে লাইট দিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। এ সংঘর্ষে কাটা ওয়াপদা জড়িয়ে পড়ে।
যৌথ বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ৩ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। আর যেন সংঘর্ষের ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে উভয় মহল্লার মাতব্বরদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ নির্দেশের প্রেক্ষিতে স্থানীয় মাতব্বর ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বুধবার সকাল থেকে আপোষের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সংঘর্ষের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন ও টহল জোরদার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে শহরের বড়পুল পশ্চিম চত্বর এলাকায় পৌর এলাকার ধানবান্ধি ও ভাঙ্গাবাড়ি মহল্লার দুই দল যুবক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। যৌথবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন। ছাব্বির নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতের ঘটনা নিয়ে এ সংঘর্ষ ঘটেছে বলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা উল্লেখ করেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোখলেসুর রহমান জানান, তিনদিন ধরে এই এলাকায় সংঘর্ষ থেমে থেমে চলছে। আমরা প্রতিদিনই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।







