সাংবাদিক ফেরদৌস হাসানের বিরুদ্ধে সাবেক মন্ত্রী লতিফ বিশ্বাস দম্পতির ১০ কোটি টাকার মান হানি মামলা আদালতে খারিজ। গত ১৩ নভেম্বর সিরাজগঞ্জের যুগ্ন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মামলাটি খারিজ করে দেন।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, বিবাদীপক্ষের আইনজীবি অ্যাডভোকেট ইন্দ্রজিত সাহা। ফেরদৌস হাসান এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সিরাজগঞ্জ টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও ওহী এন্টারপ্রাইজ (ডিস কেব্ল্ টেলিভিশন নেটওয়ার্ক) এর স্বত্বাধিকারী।
জানা যায়, ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর সাবেক মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী, সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ বিশ্বাস বাদী হয়ে ৫ কোটি টাকার মানহানির অভিযোগ ফেরদৌস হাসানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। একই দিনে আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের স্ত্রী বেলকুচি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর ময়র আশানুর বিশ্বাস আরও ৫ কোটি টাকা মানহানির অভিযোগে ফেরদৌস হাসানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ ৫ বছর পর আদালত মামলা দুটি খারিজ করে দেন। তবে মামলার শুনানীকালে বাদী লতিফ বিশ্বাস এবং আশানুর বিশ্বাসের পক্ষে কোন আইনজীবি উপস্থিত ছিলেন না। এমনকি লতিফ বিশ্বাস দম্পতি ৬৩ মাসে মাত্র ১ বার আদালতে উপস্থিত ছিলেন এমনকি তারা স্বাক্ষীর জন্য সময় প্রার্থনা করলেও তারা স্বাক্ষী দেননি।
উল্লেখ্য বিবাদী ফেরদৌস হাসান সাংবাদিকতার পাশাপাশি বেলকুচি উপজেলায় প্রতিষ্ঠাতা ডিস কেব্ল্ নেটওয়ার্ক ব্যবসায়ী। কেবল অপারেটর হিসেবে তিনি ২০০১ সাল থেকে বেলকুচি পৌর এলাকা ও বেলকুচি উপজেলায় ক্যাবল নেটওয়ার্কের সংযোগ ব্যবসা করেন। কিন্তু লতিফ বিশ্বাস ও তার স্ত্রী আশানুর বিশ্বাসের নিকট আত্মীয় যুবলীগ নেতা সাজ্জাদুল হক রেজাকে দিয়ে ক্যাবল নেটওয়ার্ক লাইন জবরদখল করে নেয়। প্রায় ১ হাজার গ্রাহকের নিকট থেকে মাসিক ডিস বিল ১৫০ টাকা হিসেবে মাসে দেড় লাখ টাকা উত্তোলন করায় ২০২০ সাল পর্যন্ত ৭০ মাসে প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা পাওনা পরিশোধের জন্য ফেরদৌস হাসান লতিফ বিশ্বাসকে চিঠি দেন। তারই জের ধরে লতিফ বিশ্বাস দম্পতি ফেরদৌস হাসানের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ প্রথম সাব জজ আদালতে মামলা দুটি দায়ের করেন।
রায়ে ফেরদৌস হাসান সন্তষ্টি প্রকাশ করে জানান, লতিফ বিশ্বাস ও তার স্ত্রী ক্ষমতার দাপটে এবং আমার পাওনা টাকা পরিশোধের ভয়ে আমার বিরুদ্ধে মামহানির নামে মিথ্যা মামলা দুটি মামলা দায়ের করে সামাজিক ভাবে আমাকেই হেয়পতিপন্ন করেছে। আমার পাওনা টাকা ফেরৎ চেয়ে ও মানহানি করায় লতিফ বিশ্বাস ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নিব।







