
রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ক্ষিরতলায় আদিবাসী যুব সমাজের উদ্যোগে শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হলো “একদিনের আদিবাসী ফুটবল টুর্নামেন্ট–২৫”। সকাল থেকেই ক্ষিরতলার ঐতিহ্যবাহী বুরুজ মাঠে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। মাঠের চারপাশে হাজারো দর্শকের ভিড়ে দিনটি পরিণত হয় এক মিলনমেলায়। খেলাধুলার পাশাপাশি এই আয়োজনে ফুটে ওঠে আদিবাসী সংস্কৃতির ঐতিহ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
প্রতি বছরের মতো এবারও শুধুমাত্র আদিবাসী ফুটবল খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে আয়োজিত হয় এই টুর্নামেন্ট। ধামাইনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজিমুদ্দিন কাজির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির উপদেষ্টা, অস্ট্রেলিয়া বিএনপির সহ-সভাপতি ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার আহ্বায়ক এবং সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ইঞ্জিনিয়ার মোঃ কামাল হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক রেজাউল করিম খান, সাবেক ধামাইনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রমজান আলী খন্দকার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নবীর উদ্দিন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রিপন হোসেন, সাবেক সোনাখাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রাশিদুল ইসলাম বাবু, সিনিয়র সহ-সভাপতি জিন্নাহ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক তছির উদ্দিন এবং পাঙ্গাসী ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোতালেব সরকার মুরাদসহ উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
দিনব্যাপী প্রতিযোগিতায় ৮টি স্থানীয় আদিবাসী দল অংশ নেয়। প্রতিটি ম্যাচেই মাঠে ছিল দর্শকদের উচ্ছ্বাস, উৎসাহ আর করতালি। ফাইনাল ম্যাচে গাজীপুর একাদশ টসের মাধ্যমে বিজয়ী হয় এবং রাজশাহী-চাঁপাই একাদশ রানার্সআপ হয়। বিজয়ী দলকে প্রথম পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় একটি ফ্রিজ এবং রানার্সআপ দলকে পুরস্কার হিসেবে প্রদান করা হয় ২৪ ইঞ্চির কালার মনিটর।
প্রধান অতিথি ইঞ্জিনিয়ার মো. কামাল হোসেন বলেন,“খেলাধুলা সমাজে শৃঙ্খলা, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের বন্ধন সৃষ্টি করে। রাজনীতি, ধর্ম বা জাতিগত ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠে খেলাধুলার মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তোলা সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন,“তরুণদের এগিয়ে যেতে হবে ইতিবাচক কাজে— খেলাধুলা তার অন্যতম পথ। এই আয়োজন শুধু খেলা নয়, সমাজে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়।”
আয়োজক সুভাষ কুমার মাহাতো বলেন,“আমাদের লক্ষ্য স্থানীয় তরুণদের ঐক্যবদ্ধ রাখা, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করা। আগামী বছর আরও বৃহৎ পরিসরে এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।”
দিনব্যাপী এই টুর্নামেন্টে ক্ষিরতলার বুরুজ মাঠে ছিল আনন্দ, ঐক্য আর বন্ধুত্বের অনবদ্য প্রকাশ। খেলাধুলার মাধ্যমে আদিবাসী সমাজে সম্প্রীতির যে বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে, সেটিই এই আয়োজনের সবচেয়ে বড় সাফল্য।