
শ্যামল হালদার, রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ)প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের চর তেলিজানা গ্রামের একটি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছিল। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আব্দুল মোতালেবের অকাল মৃত্যুর পর অভাব-অনটনে দিশেহারা হয়ে পড়েন বৃদ্ধা মা আসমা বেগম ও বিধবা স্ত্রী খালেদা খাতুন। সংসারের চরম দারিদ্র্যের কারণে দুই সন্তানও নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারছিল না—স্বপ্নগুলো যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছিল।
পরিবারটির অসহায় জীবনের গল্প প্রথম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তুলে ধরেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী কাজল দাস। মানবিক সেই পোস্ট নজরে আসে সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাসের। পরে তিনি বিষয়টি প্রবাসী সুইটি আক্তারের কাছে জানালে মানবিক আবেদন সাড়া ফেলে। পরিবারের সহায়তায় তিনি পাঠান ৭০ হাজার টাকা, যা পেয়ে পরিবারটির জীবনে ফিরে আসে নতুন আশার আলো।
সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাস জানান, প্রবাসীর পাঠানো সহায়তা সরাসরি পরিবারের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে পরিবারটিকে দেওয়া হয়েছে ৬টি উন্নত জাতের ছাগল। পাশাপাশি খাদ্য সহায়তা হিসেবে দেওয়া হয়েছে ১০০ কেজি চাল, মাছ, মুরগি, ভোজ্য তেল, ডাল, চিনি, খেজুর, মুড়ি ও প্রয়োজনীয় মশলা। সব কেনাকাটার পর অবশিষ্ট ১৩ হাজার ১৫ টাকা নগদ অর্থও পরিবারটির হাতে তুলে দেওয়া হয়।
সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত পরিবারের সদস্যরা জানান, মানুষের সহানুভূতি তাদের জীবনে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। বৃদ্ধা আসমা বেগম বলেন, “এমন সহায়তা আমাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। এখন দুই সন্তানের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া এবং পরিবারকে স্বাবলম্বী করার আশা দেখতে পাচ্ছি।”
স্থানীয়দের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইতিবাচক ব্যবহার, ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং প্রবাসীদের মানবিক সহযোগিতা একত্রে কাজ করলে অসহায় পরিবারগুলো দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, সমাজের এমন মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।