
দৃশ্যপট ডেস্ক রিপোর্টঃ
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ঢাকা–বগুড়া মহাসড়কের ভূঁইয়াগাঁতী পল্লী বিদ্যুৎ সাব–স্টেশনের সামনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সড়ক দুর্ঘটনায় সাইফুল ইসলাম (৬২) নামে এক গ্রাম্য পশুচিকিৎসক নিহত হয়েছেন। তিনি রায়গঞ্জের ঘুড়কা ইউনিয়নের রয়হাটি গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদ শেখের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় পল্লী পশু চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৬টা ২০ মিনিটের মধ্যে ভূঁইয়াগাঁতী বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মোটরসাইকেলে নিজ বাড়ি ঘুড়কার দিকে ফিরছিলেন সাইফুল ইসলাম। এসময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। দুর্ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেলেও পুলিশ পরে ঢাকা মেট্রো–চ ১৬–৩৭৬২ নম্বরের ট্রাকটি আটক করে।
দুর্ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নামেন। সড়ক থেকে লাশ উদ্ধারে বিলম্ব ও যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় তারা ভূঁইয়াগাঁতী পল্লী বিদ্যুৎ সাব–স্টেশনে ঢিল নিক্ষেপ করেন। খবর পেয়ে সলঙ্গা থানা পুলিশ ও হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি ইসমাইল হোসেন বলেন, “ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
দীর্ঘ ৩ ঘণ্টা অবরোধে মহাসড়কে হাজার হাজার যানবাহন আটকে পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রীরা। পরে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির ঘটনাস্থলে এসে বিক্ষুব্ধ জনতাকে আশ্বস্ত করেন যে পল্লী বিদ্যুৎ সাব–স্টেশনের সামনে দ্রুত সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আশ্বস্ত পেয়ে অবরোধ তুলে নেয় স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দাবি, মহাসড়কের ওই পয়েন্টটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রুতগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা জোরদার না হলে প্রাণহানি কমবে না।
তারা আরও জানান, গত ৭–৮ মাসে একই স্থানে অন্তত ১০ থেকে ১২ জন মানুষ দুর্ঘটনায় নিহত বা আহত হয়েছেন।
এলাকাবাসী বলেন, সাইফুল ইসলাম বহু বছর ধরে গ্রামের মানুষের জন্য নিরলসভাবে পশুচিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।