1. thedailydrishyapat@gmail.com : TheDaily Drishyapat : TheDaily Drishyapat
  2. info@pratidinerdrishyapat.com : Pratidiner Drishyapat : Pratidiner Drishyapat
  3. admin@thedailydrishyapat.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
রংপুরে ৪ খুনে খেজুর শসা ও সিগারেটে আসামিদের ডিএনএ মিল পেল ফরেনসিক ল্যাব জীবননগরে পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযান ৪৫৩ বোতল মাদকদ্রব্য উদ্ধার- আটক- ১ দেশে কেমিক্যাল শিল্পের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও ঘাটতি রয়েছে: মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানা পুলিশ ৯টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ ৪ জনকে গ্রেফতার প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর নাসিরনগরে আইএফআইসি ব্যাংকের ৫০ বছর পূর্তিতে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ফলের বাজার ও নিত্য পণ্যের বাজারে ভোক্তার অভিযান : জরিমানা ১ লক্ষ ৫৭ হাজার টাকা উল্লাপাড়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ঘোল-দই উৎপাদন, জরিমানা ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা রায়গঞ্জে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যু নাটোর রেলস্টেশনে জার্মান পর্যটকের ব্যাগ, ল্যাপটপ-ক্যামেরা নিয়ে উধাও যুবক

রংপুরে ৪ খুনে খেজুর শসা ও সিগারেটে আসামিদের ডিএনএ মিল পেল ফরেনসিক ল্যাব

সংবাদ প্রকাশক:
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৮ Time View

 

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর।  

 

 

রংপুর মহানগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাছুয়া পাড়ায় জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক অগ্রগতি এসেছে। ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা কামড় দেওয়া খেজুর, শসা, সিগারেট ও খেজুরের বিচির নমুনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএর সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে।

 

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর সিআইডির পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী।

 

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র ও এর আগে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চার হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে বিপুলসংখ্যক আলামত সংগ্রহ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। এর মধ্যে ছিল সিগারেটের অংশ, খেজুর, শসা, ফল কাটার চাকু, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম, বেসিনের দাগসহ অন্তত ৩৫টি আলামত। এসব আলামতের একটি অংশ ঢাকার সিআইডি ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়।

 

ঘটনার পর গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ঘটনাস্থলের আলামতের সঙ্গে তুলনা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে তাদের ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। তখন তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি ডিবি জিনাত আলী জানিয়েছিলেন, ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দুই আসামির সংশ্লিষ্টতা আরও বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করা হবে।

 

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে, হত্যাকাণ্ডের পরও মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ কিছু সময় গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে অবস্থান করেছিল। তারা গোসল করে এবং ঘরের ফ্রিজ থেকে খেজুর ও শসা বের করে খায়। পরে তারা ঘরের বিভিন্ন কক্ষ তছনছ করে স্বর্ণালংকার ও টাকা নিয়ে যায়।

 

ঘটনাস্থলে পাওয়া কামড় দেওয়া শসা ও খেজুরের বিচি শুরু থেকেই তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হয়। পরে সিগারেটের অংশসহ অন্যান্য জৈব ও বস্তুগত আলামতও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।

 

এই মামলায় মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তারের পর তারা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পুলিশ জানায়, ওই জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে তদন্তকারীরা তাদের বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনাস্থলের আলামত, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও অন্যান্য ফরেনসিক তথ্য মিলিয়ে দেখার উদ্যোগ নেন।

 

তদন্তের শুরুতে পুলিশ জানিয়েছিল, হত্যাকাণ্ডের আগে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের অবস্থান এবং সেখানে ইয়াবা সেবন নিয়ে বিরোধের সূত্র ধরে হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। পরে চারজনকে হত্যার পর বাড়ির ভেতরে অবস্থান, মালামাল তছনছ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার তথ্যও তদন্তে সামনে আসে।

 

তদন্তে নতুন এই ডিএনএ মিল মামলার ফরেনসিক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। বিশেষ করে ঘটনাস্থলে পাওয়া ও ব্যবহৃত খাদ্যদ্রব্য এবং ধূমপানের আলামতে দুই আসামির ডিএনএ পাওয়া যাওয়ার তথ্য তাদের ঘটনার সঙ্গে সম্ভাব্য সরাসরি যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সূত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

তবে তদন্তের এই পর্যায়ে ডিএনএ মিলকে এককভাবে চূড়ান্ত অপরাধের প্রমাণ হিসেবে দেখছেন না তদন্তসংশ্লিষ্টরা। আদালতে অভিযোগ প্রমাণের ক্ষেত্রে ডিএনএ ফলাফলের পাশাপাশি জবানবন্দি, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ঘটনাস্থলের অন্যান্য আলামত, লুট হওয়া সম্পদ উদ্ধারের তথ্য এবং তদন্তে পাওয়া অন্যান্য প্রমাণও বিবেচনায় আসবে।

 

উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়া পাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এবং ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুই দিন যোগাযোগ না হওয়া এবং বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ার পর স্বজনেরা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে পুলিশ গিয়ে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের তদন্তে চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যার তথ্য উঠে আসে। মামলাটি পরে অধিকতর তদন্তের জন্য গোয়েন্দা শাখায় হস্তান্তর করা হয়।

 

রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক এই শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীকে সপরিবারে হত্যার পর থেকেই রংপুরের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ এই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার দাবি করে আসছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
প্রতিদিনের দৃশ্যপট ২০২৪
Theme Customized BY Kh Raad (FriliX Group)
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com