
শ্যামল হালদার, রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের চর তেলিজানা গ্রামে এক অসহায় পরিবারের বুকফাটা কান্না আজ এলাকাবাসীকেও নাড়া দিচ্ছে। প্রায় ১০ মাস আগে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আব্দুল মোতালেব নিহত হওয়ার পর থেকে পরিবারটি মানবেতর জীবনযাপন করছে।
পরিবারের প্রধান উপার্জনকারীর আকস্মিক মৃত্যুতে একসময়কার স্বাভাবিক ও সাজানো সংসারটি আজ টিকে থাকার সংগ্রামে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পরিবারের সদস্যরা এখন চরম অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
পরিবারের বৃদ্ধা মা আসমা বেগম বার্ধক্যের ভার নিয়েও নাতিদের মুখে খাবার তুলে দিতে অন্যের বাড়িতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। জীবনের এই শেষ সময়ে বিশ্রামের বদলে কঠোর পরিশ্রমই হয়ে উঠেছে তাঁর একমাত্র ভরসা।
এদিকে বড় ছেলে ইব্রাহিম এবং মাত্র পাঁচ বছর বয়সী ছোট্ট আব্দুল্লাহ—দুই এতিম শিশুর ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চয়তার মুখে। অর্থাভাবে তাদের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
স্বামী হারানোর পর বিধবা খালেদা খাতুন সন্তানদের বাঁচাতে সমাজের নানা বাধা উপেক্ষা করে বাইরে মাটি কাটার মতো কঠিন শ্রমের কাজ করছেন। পরিবারের দেখভাল করার মতো বর্তমানে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ সদস্য অবশিষ্ট নেই।
স্থানীয়দের মতে, কোনো সহৃদয় ব্যক্তি, দানশীল প্রতিষ্ঠান কিংবা সরকারি ও আধা-সরকারি সংস্থা এগিয়ে এলে পরিবারটি আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেতে পারে। বিশেষ করে বাড়িতেই স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা—যেমন গরু বা ছাগল পালন, কিংবা ছোট একটি দোকান—তাদের জীবনে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারে।
বর্তমানে পরিবারটি খাদ্যসংকটসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় মৌলিক চাহিদা পূরণেও হিমশিম খাচ্ছে।
সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী বাংলাদেশিসহ সকল মানবিক মানুষদের প্রতি আকুল আবেদন জানানো হয়েছে—এই এতিম দুই শিশুর ভবিষ্যৎ রক্ষায় এগিয়ে আসার জন্য। সামান্য সহায়তাও পরিবারটির জীবনে নতুন আশার আলো হয়ে উঠতে পারে।