কবিতায় বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পাচ্ছেন সিরাজগঞ্জের কৃতি সন্তান কবি মোহন রায়হান।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২৫ ঘোষণা করা হয়। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ প্রাপ্ত ৮ বিশিষ্টজনের নাম ঘোষণা করা হয়। এতে প্রথমেই রয়েছে মোহন রায়হানের নাম। তিনি কবিতায় বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
কবি মোহন রায়হান ১৯৫৬ সালের ১ আগস্ট সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের খলিসাকুড়া গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ফরহাদ হোসেন ছিলেন আজাদ হিন্দ ফৌজের সৈনিক। তিনি ৩০ বছর ধরে খোকশাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন।
মোহন রায়হান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর অর্জন করেন। ১৯৬৯ সালে তাঁর সাহিত্যকর্ম শুরু হয়। বর্ণাঢ্য জীবনে তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ “জ্বলে উঠি সাহসী মানুষ, আমাদের ঐক্য আমাদের জয়, সামরিক আদালতে অভিভাষণ, আর হল না বাড়ি ফেরা, ফিরে দাও সেই স্টেনগান, শকুন সময়, সবুজ চাদরে ঢাকা রক্তাক্ত ছুরি, নিরস্ত্রীকরণ কবিতা, কবি কাপুরুষ হলে পৃথিবীতে নামে অন্ধকার, রক্তসিক্ত অশ্রুজবা, মেঘের শরীরে যাব, শাহবাগ ডেকেছে আমায়, লাল মিছিলের ঐক্য, কালো আকাশে রক্তাক্ত মেঘ ইত্যাদি।
মোহন রায়হান সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও জাতীয় কবিতা পরিষদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তিনি সূর্য সৈকত, স্ফুলিঙ্গ, সমকণ্ঠ, জনান্তিক, অরণি, সাহস, দুর্বিনীত এই মাটি জ্বলে প্রতিরোধে, লাল তোমার পতাকা, ইশতেহার, বিদ্রোহের পঙ্ক্তিমালা ইত্যাদি পত্রিকার প্রাক্তন সম্পাদক এবং সাপ্তাহিক দিকচিহ্ন ও সাওল সময় পত্রিকার বর্তমান সম্পাদক।
২০২৪ সালে তাকে প্রধান করে জাতীয় কবিতা পরিষদের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।
মোহন রায়হান সাহিত্যকর্মের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় ছয় দফা আন্দোলনে যোগ দেন। কিশোর বয়সে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করে পুলিশি নির্যাতনের শিকার হন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীনতার পরে তিনি জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলে যোগদান করেন। ১৯৮২ সালে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সামরিক শাসন জারি করা মাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে তার নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছিল।১৯৮৩ সালে তাঁর নেতৃত্বে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী শিক্ষাভবন ঘেরাও করলে গোয়েন্দা সংস্থা তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ২১ দিন আটকে রেখে নির্যাতন করে মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দেয়। ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হয়ে উঠেন।
২০১৩ সালে শাহবাগ আন্দোলনে তিনি সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল ছেড়ে বাংলাদেশ জাসদে সম্পৃক্ত হন। ২০২৪ সালে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিলেন।







