
নীলফামারীর ডিমলা থানার ইফতার মাহফিলে আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের অভিযুক্ত এক ব্যক্তির উপস্থিতিকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকারের অপসারণসহ বিভিন্ন দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় ছাত্র-জনতা। সেই মানববন্ধনে ওসি নিজে গিয়ে উপস্থিত হন এবং লাইনে দাঁড়িয়ে সবার বক্তব্য শোনেন।
রোববার (৮ মার্চ) বিকালে উপজেলা সদরের স্মৃতি অম্লান চত্বরে ‘উপজেলার সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা’ ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত এবং পূর্বে গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ শেষে বর্তমানে জামিনে থাকা নুর ইসলাম (নুরুল ইসলাম) নামের এক ব্যক্তিকে ডিমলা থানার ইফতার মাহফিলে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
তাদের দাবি, রাতারাতি বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া ওই ব্যক্তি অনৈতিক সুবিধার মাধ্যমে থানার ইফতার মাহফিলে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এ ঘটনায় তারা ওসি শওকত আলী সরকারের অপসারণসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টি নীলফামারী জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিল প্রধান, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ ডিমলা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আজিনুর রহমান, জাতীয় ছাত্রশক্তি নীলফামারী জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক উমর ফারুক, গণঅধিকার পরিষদ ডিমলা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান রাজ, বাংলাদেশ ছাত্রঅধিকার পরিষদ ডিমলা উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরিফ এবং শিক্ষক মোশাররফ হোসেনসহ আরও অনেকে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ডিমলা থানার ওসি শওকত আলী সরকার বলেন, অভিযুক্ত ওই ব্যক্তিকে থানার ইফতার মাহফিলে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
তিনি বলেন, ‘আমি তাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। তিনি কীভাবে বা কার সঙ্গে ইফতার মাহফিলে উপস্থিত হয়েছেন, সেটিও আমার জানা নেই। থানা চত্বরে থাকা মসজিদে নামাজ পড়তে এসে তিনি নিজ উদ্যোগে ইফতারে অংশ নিয়ে থাকতে পারেন।’
এদিকে ইফতার মাহফিলে ওই ব্যক্তির উপস্থিতির বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। রাজনৈতিক, সামাজিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ইফতার মাহফিলের ছবি পোস্ট করে এ ঘটনায় তীব্র সমালোচনা করেন।