
খ,ম,জায়েদ হোসেন,নাসিরনগর( ব্রাহ্মণবাড়ীয়া) প্রতিনিধি
মুসলিম উম্মার প্রধান ধর্মীয় উৎসব আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে নিজের সাধ ও সাধ্যের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে কোরবানির প্রস্তুতি নিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এই উৎসবকে সামনে রেখে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার বিভিন্ন পশুর হাটগুলো ক্রেতা-বিক্রেতাদের আনাগোনায় মুখর হয়ে উঠেছে। কাঙ্খিত পশুর খোঁজে ক্রেতারা এক হাট থেকে অন্য হাটে ঘুরে দাম যাচাই করছেন।
স্থানীয় ক্রেতারা তাদের আশেপাশের বিভিন্ন অস্থায়ী পশুর হাট – নাসিরনগর সদর, চাতলপাড়, ফান্দাউক, নূরপুর, গোকর্ণ, কুলিকুন্ডা, হরিনবেড়, চাপড়তলা, সহ বিভিন্ন আঞ্চলিক হাটে ভিড় করছেন। এরই মধ্যে পশু কেনা- কাটা সেড়ে নিচ্ছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা।
এছাড়া পবিত্র ঈদুল আজহা কোরবানি ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই জমে উঠেছে কামার পল্লী। উপজেলার বিভিন্ন কামার পল্লীতে ঢুকলেই কানে ভেসে আসে টুংটাং শব্দ। হাতুড়ি ও লোহা-পেটানো যন্ত্রপাতির শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা। বছরের বেশিরভাগ সময় অলস সময় কাটালেও, ঈদুল আজহার ঈদ সামনে রেখে ব্যস্ততা বেড়েছে কয়েকগুণ।
কামারপাড়ার একাধিক দোকানে গিয়ে দেখা যায়, কামাররা ঘাম ঝড়িয়ে তৈরি করছেন দা, বটি, চাপাতিসহ কোরবানির মাংস প্রক্রিয়াজাত করার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, কিনতে ভিড় করছেন ক্রেতারা।
মাংস কাটার সরঞ্জাম কিনতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম প্রতিবেদককে বলেন, ‘বাজারে বিভিন্ন ধরনের ছুরি পাওয়া যায়, কিন্তু সেগুলো টেকসই না। কামারদের তৈরি লোহার দা-বটি অনেক মজবুত এবং কাজেও ভালো হয়। তবে এবার দাম কিছুটা বেশি চাওয়া হচ্ছে।’
বিক্রেতা বিবেক কর্মকার বলেন, ‘একটা দা-বটি বানাতে অনেক টাকা খরচ হয়, কিন্তু সেই তুলনায় দাম ঠিকমতো পাওয়া যায় না। তাছাড়া এখন বিদেশি দা-বটিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র বাজারে ঢুকেছে, যার প্রভাব পড়েছে আমাদের বিক্রিতে। তারপরও ঈদের জন্য কিছুটা বিক্রি বেড়েছে।’
সব মিলিয়ে ঈদ কেন্দ্রিক সকল আয়োজন এবং ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত হউক মানবজীবন এ-ই প্রত্যাশা উপজেলাবাসীর।