উল্লাপাড়া প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বাঙালা ইউনিয়নের খোজাখালি গ্রামে নদীর পাড় থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে জোরপূর্বক মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ মিল্টনের বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বেপরোয়া কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেলেও তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরকারি নদী খননের পাড় কেটে মাটি বিক্রিঃ
খোজাখালি গ্রামে সরকারিভাবে নদী খনন করা হয়েছিল ২০২০ সালে। খনন শেষে নদীর পাড় শক্ত করে বাঁধাই করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি সেই পাড়ের বিভিন্ন অংশ ভেকু মেশিন দিয়ে কেটে ট্রলিতে তুলে বিভিন্ন বাড়িঘরে মাটি বিক্রি করতে দেখা যায় মিল্টনকে।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) বিকেলে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে দেখা যায় নদীর দুই পাড়ে গভীর কাটার দাগ, চলমান ভেকু মেশিন ও ট্রলিতে মাটি পরিবহন হচ্ছে।
কৃষকদের অভিযোগ: ভয় দেখিয়ে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছেঃ
স্থানীয় কৃষক মজিবুর রহমান বলেন, আমার ৪০ শতাংশ জমির পাশে সরিষা আবাদ করেছি। সেই জমির সামনে থেকে মাটি কাটছে। বাধা দিতে গেলে মিল্টন পুলিশ দিয়ে হয়রানির ভয় দেখায়।
একই এলাকার ঠান্ডু সরকার জানান, ভেকু আমার ফসলের খেতে চলে এলে বাধা দিই। তখন মিল্টন আমাকে মারধর করার হুমকি দেয় এবং পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখায়।”
অভিযোগ বিষয়ে গ্রাম পুলিশ মিল্টন দাবি করেন আমি মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত নই। আমাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অভিযুক্ত করা হচ্ছে।
প্রশাসন অবগত, কিন্তু ব্যবস্থা নেইঃ
অভিযোগ ওঠার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সালেহ মোহাম্মদ হাসনাত জানিয়েছেন ভূমি অফিসকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ ওঠার তিন দিন পার হয়ে গেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান বা যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় বেপরোয়া মিল্টনঃ
স্থানীয়দের অভিযোগ মিল্টন চৌকিদার স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের দোসর হিসেবে পরিচিত। বাঙালা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহেল রানার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্ম করেও পার পেয়ে যাচ্ছেন। ভাতা কার্ড,চাউলের কার্ড দেওয়ার কথা বলে গরীব অসহায় মানুষের কাছে থেকে টাকাপয়সা নেওয়ার অভিযোগ ও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশে একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন মিল্টন রাজনৈতিক ছত্রছায়া পেয়ে যা খুশি তাই করছে। তার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস কেউ পায় না।
স্থানীয়দের দাবি: দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন
নদীর পাড় কাটার ফলে পরিবেশগত ঝুঁকি, কৃষিজমি ক্ষতি এবং জনসাধারণের ভোগান্তি বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে এলাকাবাসী প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ এবং মিল্টনের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।







