তেলবীজ সরিষা চাষে সারাদেশের মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে সিরাজগঞ্জ। জেলার একটি উপজেলা কামারখন্দেও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে সরিষার। বাম্পার ফলন হওয়ায় বেড়েছে উৎপাদন। সরিষার তেলের স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা যাবে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রবি/২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে উপজেলায় ৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। আবাদ করা হয়েছে ৩ হাজার ৬০৫ হেক্টর জমিতে। এবছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০৫ হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত সরিষার আবাদ করা হচ্ছে। এবছর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৭৭৫ মেট্রিক টন। ইতিমধ্যে ১ হাজার ৪২০ হেক্টর জমির সরিষা কর্তন করা হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ১.৬৫ মেট্রিক টন হারে সরিষার উৎপাদন হচ্ছে। এতে আবাদের ৪০ ভাগ সরিষা কর্তন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৩৫০ মেট্রিক টন সরিষার উৎপাদন হয়েছে।
এবছর মোট সরিষার আবাদি জমি থেকে প্রায় ৬ হাজার মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদনের আশা করছে কৃষি অফিস। বর্তমান বাজারে সরিষার জাত ভেদে গড়ে প্রায় ৩ হাজার টাকা মণে বিক্রি হচ্ছে। এতে প্রায় ৪৫ কোটির টাকার সরিষা উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখতে কৃষি কর্মকর্তারা। কৃষকরা জানান, আগে আমরা এক ফসল কিংবা দুই ফসল আবাদ করেছি। কিন্তু এখন রোপা আমন ও বোরো ধান আবাদের মধ্যবর্তী সময়ে সরিষার আবাদ করে বাড়তি মুনাফা অর্জন করছি। এতে আমরা এখন সারা বছর জমিতে দুুই বার ধান ও একবার সরিষার আবাদ করছি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন চন্দ্র বর্মন জানান, বিভিন্ন উন্নত জাতের সরিষার প্রণোদনা সহ বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। যার ফলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এবছর ১০৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ বেশি হয়েছে। স্থানীয় বাজারে তেলের চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরিষা সরবরাহ করতে পারবে কৃষকরা।







