সিরাজগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নতুন আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদনের ৪৮ ঘণ্টা না যেতেই এর ৫০ জন নেতা একযোগে পদত্যাগ করেছেন।
রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সদ্য ঘোষিত জেলা কমিটিকে ‘অবৈধ, অস্বচ্ছ ও একতরফা’বলে অভিযোগ তুলে একযোগে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তার।
পদত্যাগকারীরা হলেন সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ইয়াসির আরাফাত ইশান, যুগ্ম আহ্বায়ক আসির ইন্তেসার অয়ন, টিএম মুশফিক সাদ, রাহাত তালুকদার, সাদমান জাহিন, সংগঠক যুবায়ের আল ইসলাম সেজান, সিনিয়র সহ-মুখপাত্র সাদিয়া আহমেদ সিনহা ও যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আঞ্জারুল ইসলামসহ ৫০ জন।
সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগকারী নেতারা বলেন, পূর্বের আহ্বায়ক কমিটিকে বিলুপ্ত না করেই হঠাৎ করে একটি নতুন কমিটি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। পুরো প্রক্রিয়াটি গোপনে ও কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে—যা সংগঠনের গণতান্ত্রিক চর্চা ও নীতির পরিপন্থী।
কেন্দ্রীয় সভাপতি বরাবর পাঠানো পদত্যাগপত্র তুলে ধরে বলা হয়, নতুন কমিটিতে এমন কয়েকজনকে জায়গা দেওয়া হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, নারী-সংক্রান্ত অনৈতিক আচরণ, মাদকসংশ্লিষ্টতা ও প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলেন, স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া ছাড়া গঠিত কোনো কমিটি তারা মেনে নেবেন না। সংগঠনের আদর্শ রক্ষার স্বার্থেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমরা নীতি-আদর্শের দিক থেকে তাদের সঙ্গে একসাথে থাকতে পারি না।
ছাত্র নেতারা বলেন, আমরা আশা করছিলাম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন গণতান্ত্রিক উপায়ে একটি কমিটি হবে। কিন্তু যে কমিটি হলো সেটি কোন উপায়ে দিয়েছে? রাত ১২টায় পকেট কমিটি দেওয়া হয়েছে। আমরা ঢাকায় গিয়ে কথা বলবো। কত টাকার বিনিময়ে এই কমিটি পাস করেছে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো।
এর আগে গত ২৮ নভেম্বর ৬ মাসের জন্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার ২০৮ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি নতুন আহ্বায়ক অনুমোদন দেন কেন্দ্রীয় সভাপতি রিফাত রশিদ, মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক মুঈনুল ইসলাম।







