
উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ঘোল, মাঠা, ঘি ও দই উৎপাদন, লেবেলবিহীন পণ্য ও রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগে চার প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই অভিযানে নকল ও লেবেলবিহীন শিশু খাদ্য বিক্রির দায়ে আরও দুই ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সব মিলিয়ে ছয় প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার সলপ এলাকায় উপজেলা প্রশাসন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের যৌথ অভিযানে এসব জরিমানা করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলামের নেতৃত্বে সলপ এলাকার ঘোল ও মাঠার কারখানাগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে লেবেলবিহীন মাঠা, ঘোল, ঘি ও দই উৎপাদন এবং লেবেলবিহীন রাসায়নিক ব্যবহারের বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ে।
এসব অনিয়মের দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ‘সলপ ঘোল এন্ড সাদেক খান দই ঘর’-এর মালিক মো. আব্দুল মালেক খানকে ৫০ হাজার টাকা, ‘সলপ দই ঘর’-এর মালিক আব্দুল খালেক খানকে ৫০ হাজার টাকা এবং ‘সলপ মাঠা ঘোল দই ঘর’-এর মালিক মো. আব্দুর রাজ্জাককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ ছাড়া নিরাপদ খাদ্য আইনে ‘সলপ কাশেম ঘোল মাঠা দই এন্ড মিষ্টান্ন ভাণ্ডার’-কে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানকালে জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা গৌতম কুমার সাহার উপস্থিতিতে মিল্ক অ্যানালাইজারের মাধ্যমে দুধের বিশুদ্ধতা ও মান পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় দুধে ফ্যাটের পরিমাণ নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে কম পাওয়া যায়।
অন্যদিকে, উল্লাপাড়া বাজারে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সোহেল শেখের নেতৃত্বে শিশু খাদ্যের দোকানেও অভিযান চালানো হয়। নকল ও লেবেলবিহীন শিশু খাদ্য বিক্রির দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ‘মেসার্স শফিকুল স্টোর’-এর মালিক শফিকুল ইসলামকে ১০ হাজার টাকা এবং ‘মেসার্স শরিফ স্টোর’-এর মালিক শরিফুল ইসলামকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ সময় বাজারে গ্যাস সিলিন্ডারের নির্ধারিত মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতিও তদারকি করা হয়।
অভিযানে জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা, উপজেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক, স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং উল্লাপাড়া মডেল থানার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থেকে সহযোগিতা করেন।
উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে ভেজাল, অনিয়ম ও ভোক্তাস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।