
সাব্বির মির্জা,তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
অল্প পুঁজি ও অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে লাউ চাষে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সিরাজগঞ্জের তাড়াশ পৌর শহরের কোহিত গ্রামের পরিশ্রমী কৃষক আব্দুল আজিজ। মাত্র ৩৩ শতাংশ জমিতে লাউ চাষ করে তিনি এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন, এবং মাচায় থাকা লাউ বিক্রি করে আরও ২০ হাজার টাকার আয় হবে বলে আশা করছেন।
নিজস্ব চাষযোগ্য জমি না থাকায় তিনি স্থানীয় আড়ংগাইল গ্রামের একটি মাদ্রাসার ৩৩ শতাংশ পতিত জমি এক লাখ বিশ হাজার টাকায় লিজ নেন। এরপর পরিশ্রম ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে সেখানে লাউয়ের চাষ শুরু করেন। ফলনও হয়েছে আশানুরূপ ভালো।
আব্দুল আজিজ জানান,“ছেলে-মেয়ের পড়ালেখা ও সংসার চালাতেই এই উদ্যোগ নিয়েছি। বীজ, সার ও মাচা তৈরিতে মোট খরচ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত যা বিক্রি করেছি, তাতে পরিবারের কিছুটা স্বস্তি এসেছে।”
কৃষক আজিজ আরও বলেন, কীটনাশক ও রাসায়নিক সার না ব্যবহার করে শুধুমাত্র জৈব সার দিয়ে উৎপাদিত লাউয়ের চাহিদা স্থানীয় বাজারে অনেক বেশি। লাউ বিক্রির পর ওই জমিতেই তিনি শীতকালীন ফসল যেমন বেগুন, টমেটোসহ নানা ধরনের সবজি চাষের পরিকল্পনা নিয়েছেন। ইতিমধ্যে তিনি বীজ বপন করে চারা তৈরি করে রেখেছেন।
রবিবার সকালে কোহিত গ্রামের তাঁর সবজি বাগানে গিয়ে দেখা যায়, আব্দুল আজিজ মাচা থেকে পাকা লাউ সংগ্রহ করছেন বাজারে নেওয়ার জন্য।
স্থানীয়রা জানান, কৃষক আজিজ একজন পরিশ্রমী ও উদ্যোগী মানুষ। তিনি বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করে নিজের পরিবারের পাশাপাশি স্থানীয় বাজারেও সরবরাহ করেন। তাঁর সাফল্য দেখে আশপাশের কৃষকরাও অনুপ্রাণিত হচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা বলেন, “আব্দুল আজিজের মতো পরিশ্রমী ও সৎ কৃষকেরা আমাদের সম্পদ। তাঁর সাফল্য অন্য কৃষকদের অনুপ্রেরণা দিচ্ছে। আমরা তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত আছি।”
এই সাফল্যে খুশি আব্দুল আজিজের পরিবারও। স্ত্রী ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে এখন তিনি কৃষিকেই ভরসা হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, “মনোযোগ ও পরিশ্রম থাকলে ছোট পরিসরেও কৃষিতে সফলতা অর্জন করা সম্ভব।”