
ইসলাম ডেস্ক
ইসলামে সুস্থ জ্ঞানসম্পন্ন প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নর-নারীর ওপর দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ। মহাগ্রন্থ আল কোরআনে রাব্বুল আলামিন সরাসরি নামাজ আদায়ের নির্দেশনা দিয়েছেন।
ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা নামাজ কায়েম করো, জাকাত দাও এবং যারা রুকু করে তাদের সঙ্গে রুকু করো।’ অন্য আয়াতে আল্লাহতাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর নির্ধারিত সময়ে ফরজ।’ (সুরা বাক্বারা: ৪৩, সুরা নিসা: ০৩)
হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘নামাজ হলো দ্বীনের স্তম্ভ।’ অর্থাৎ, নামাজ ছাড়া ধর্মের ভিত্তি গড়ে ওঠে না । আরেক হাদিসে এসেছে, পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ তার মাঝের গোনাহসমূহকে মিটিয়ে দেয়। (মুসনাদে আহমাদ: ২২৪২৮, মুসলিম: ২৩১)
আর নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে বিনা ওজরে জামাত ত্যাগ করা নাজায়েজ। তবে যারা নিয়মিত বিভিন্ন অফিস-আদালত বা দোকানে কাজ করেন, তাদের অনেক সময় জামাত ছুটে যায়। একা নামাজ পড়তে হয়। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেক নামাজিই একটা সমস্যায় ভুগে থাকেন; সেটা হলো, ‘একাকী নামাজে ইকামত দেবেন কি না।’
এ ক্ষেত্রে শরিয়তের ভাষ্য হলো, একাকী নামাজি ব্যক্তি যদি মুসাফির হয়, তাহলে তার জন্য ইকামত দিয়ে নামাজ পড়তে হবে। যদি ইকামত ছাড়া নামাজ পড়ে, তাহলে মাকরূ হবে। আর যদি একাকী নামাজি ব্যক্তি মুকিম হয় এবং ঘরে নামাজ পড়ে, তাহলে তার জন্য ইকামত দেওয়া উত্তম। যদি না দেয়, তাহলে কোনো সমস্যা নেই। আর যদি মুকিম ব্যক্তি মসজিদে একাকী নামাজ পড়ে, তাহলে ইকামত ছাড়া পড়াই উত্তম। (সুনানুল কুবরা, ইমাম বায়হাকি: ২/১৬৬; হাদিস ১৯৪৮-১৯৫০, ফাতাওয়াতুত তাতারখানিয়া: ২/১৫১, ফতোয়া ২০০৫-২০০৬)।