
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের হিমনগর ব্রিজ থেকে ধামাইচ উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত একমাত্র সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শত শত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কাদা ও পিচ্ছিল হয়ে পড়া এ সড়ক দিয়ে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে।
সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আত্রাই ও বেসানী (কাটাবাড়ি) নদীর মোহনার পাশ ঘেঁষে থাকা কাঁচা সড়কটি বৃষ্টির পানিতে কাদাময় হয়ে গেছে। প্রতিদিন এই পথ দিয়েই ধামাইচ উচ্চ বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং স্থানীয় হাটে যাতায়াত করেন শত শত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, নারী-পুরুষ ও বয়োবৃদ্ধ।
স্কুল ছুটির পর শিক্ষার্থী সিফাত আহমেদকে জুতা হাতে কাদার মধ্যে হেঁটে বাড়ি ফিরতে দেখা যায়। একইভাবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও জুতা হাতে পথ অতিক্রম করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, বৃষ্টির দিনে রাস্তা এতটাই পিচ্ছিল হয়ে পড়ে যে খালি পায়েও নিরাপদে হাঁটা কঠিন হয়ে যায়।
নাওখাদা গ্রামের বাসিন্দা তাজুল ইসলাম বলেন, “ধামাইচ বাজারের পাশেই মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। অথচ গ্রামের একমাত্র হাট ও স্কুলে যাওয়ার রাস্তাটির এমন বেহাল অবস্থা যে দিনের বেলাতেই চলাচল কষ্টকর।”
স্থানীয় দোকানদার আনিছুর রহমান মোল্লা বলেন, “রাস্তা এতটাই পিচ্ছিল যে পা ফসকে অনেক সময় নদীতে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।”
চরকুশাবাড়ি দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, “ধামাইচ স্কুল ও হাটে যেতে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বারবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে দাবি জানানো হলেও সড়কটি এখনো পাকাকরণ করা হয়নি।”
সগুনা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সুজন সরকার জানান, সড়কটি পাকাকরণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করা হলেও এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
ধামাইচ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুকুল হোসেন মোল্লা বলেন, “জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। দ্রুত সংস্কার বা পাকাকরণ না হলে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”
সগুনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী ভুট্টো বলেন, “এই সড়ক দিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন, “আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ পাওয়া গেলে সড়কটি পাকাকরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া হোক।