
নিজস্ব প্রতিনিধি
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সলঙ্গা পশুর হাটে জমে উঠেছে গরু-ছাগলের বেচাকেনা। উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ ও জনপ্রিয় এই পশুর হাটে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছেন ক্রেতা-বিক্রেতা ও পাইকাররা। প্রতি সোমবার বসা এ হাট এখন ঈদ উপলক্ষে পরিণত হয়েছে প্রাণচাঞ্চল্যে ভরা এক বাণিজ্যকেন্দ্রে।
এক সময় “গরুর হাট” নামে পরিচিত সলঙ্গা পশুর হাট আজও তার শতবর্ষী ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। হাটজুড়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাক, দরদাম আর পশু দেখাদেখিতে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি আকারের গরু-ছাগলের চাহিদা এবার তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে। মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষ এসব পশু কিনতেই বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
স্থানীয় খামারি ও ক্ষুদ্র পশুপালকেরা জানান, সারা বছর খড়, খৈল, ভুষি, কাঁচা ঘাস ও দেশীয় খাবার দিয়ে যত্নে গরু-ছাগল লালন-পালন করেছেন তারা। অনেকেই এনজিও ঋণ কিংবা ধারদেনা করে পশু পালন করেছেন ঈদে কিছু লাভের আশায়। তবে গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে এবার উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে কয়েকগুণ। ফলে কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
হাট ইজারাদার সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর কোরবানির ঈদের আগে সলঙ্গা পশুর হাটে কয়েক কোটি টাকার পশু বেচাকেনা হয়। উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হাটিকুমরুল রোড থেকে প্রায় চার কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত ঐতিহাসিক এ হাটে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাক ও ভুটভুটিতে করে পশু নিয়ে আসেন ব্যাপারীরা।
রায়গঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম জানান, এ বছর উপজেলায় মোট কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ৭১ হাজার ৭২টি। এর মধ্যে স্থানীয় চাহিদা ২৬ হাজার ৩২৮টি এবং অতিরিক্ত ৪৪ হাজার ৭৪৮টি পশু দেশের বিভিন্ন এলাকার চাহিদা পূরণ করবে। তিনি আরও জানান, সলঙ্গা, ভূইয়াগাঁতী, ঘুড়কা, নলকা, সাহেবগঞ্জ ও হাটিকুমরুল—এই ছয়টি পশুর হাটের মধ্যে সলঙ্গা সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে সলঙ্গা পশুর হাটে মেডিকেল টিম রাখা হয়েছে। এছাড়া ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে।
হাট ইজারাদার কে. এম রোকনুজ্জামান বলেন, “সলঙ্গা একটি ঐতিহ্যবাহী গরুর হাট। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ এখানে পশু কিনতে ও বিক্রি করতে আসেন। ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
সলঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আছলাম আলী জানান, ঈদকে সামনে রেখে এলাকায় গরু চুরি, ছিনতাই ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বিশেষ টিম দিন-রাত কাজ করছে। পাশাপাশি হাটে জাল টাকা শনাক্তে বিশেষ ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।