নিজস্ব প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় এক অসহায় বৃদ্ধাকে মারধর করে হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ধামাইনগর ইউনিয়নের জামতৈল পূর্বপাড়া কানাদিঘি গ্রামের বাসিন্দা ছাকেরা বেগমের স্বামী আবু বক্কর দীর্ঘদিন ধরে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী। নিঃসন্তান এই দম্পতি চরম দারিদ্র্যের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং স্থানীয়দের সহায়তায় জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।
অভিযোগ রয়েছে, কয়েকদিন আগে প্রতিবেশী আব্দুস সাত্তারের পুত্রবধূ সুমি খাতুন ছাকেরা বেগমের ঘর থেকে ১১ হাজার টাকা ও রান্নার দুটি পাতিল নিয়ে যান। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের সামনে তিনি তা স্বীকার করেন বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের। পরে ৭ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হলেও বাকি ৪ হাজার টাকা পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, বকেয়া টাকা চাইতে গেলে আব্দুস সাত্তার তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে দম্পতির চলাচলের পথও বাধাগ্রস্ত করা হয় বলে জানা যায়।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে ছাকেরা বেগম প্রতিবাদ করলে তাকে বাঁশ দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তার একটি হাত ভেঙে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিরাজগঞ্জ এম এ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় প্রতিবেশী রফিকুল ইসলাম ও শুকুর আলী বলেন, “ছাকেরা বেগমের সঙ্গে যা হয়েছে তা অত্যন্ত অন্যায় ও নিন্দনীয়।” তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানান।তবে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীরা অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে সেটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পান। পরিবারের কাউকে সেখানে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত আব্দুস সাত্তার, তার দুই ছেলে ও পুত্রবধূরা ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান বলেন, “এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”