ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
‘অহন পর্যন্ত ২ লাখের মতো নিছি, সামনে আরও ১০ লাখ নিয়াম—এইবার তো শুরু মাত্র।’—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার কাছিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল হকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকেরা।
দপ্তরি পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে দুই লাখ টাকা নেওয়া এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য পদ পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে এ মানববন্ধন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১১ টার দিকে বিদ্যালয়ের সামনে ‘সচেতন এলাকাবাসী ও অভিভাবকবৃন্দ’-এর ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধন থেকে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য মাসুদ রানা বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক নাজমুল হক একজন দুর্নীতিবাজ লোক। তিনি স্কুলটিকে নিজের ইচ্ছামতো পরিচালনা করছেন। চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া, কমিটির সদস্য পদ দেওয়ার নামে অর্থ নেওয়াসহ তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। ভাইরাল ভিডিওতে তাঁর নিজের কথাই শোনা গেছে। আমরা এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত চাই। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অন্যরা বলেন, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য পদ দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
সম্প্রতি প্রধান শিক্ষক নাজমুল হকের কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাঁকে দপ্তরি পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার প্রসঙ্গে বলতে শোনা যায়, ‘অহন পর্যন্ত ২ লাখের মতো নিছি, সামনে আরও ১০ লাখ নিয়াম। এইবার তো শুরু।’ একই ভিডিওতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য পদ দেওয়ার বিনিময়ে টাকা নেওয়ার বিষয়েও কথা বলতে শোনা যায়।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধনের আয়োজন করেন সচেতন এলাকাবাসী ও অভিভাবকেরা।
এদিকে ভাইরাল ভিডিও এবং ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক নাজমুল হককে শোকজ করা হয়েছে। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে ভিডিওতে তাঁর বক্তব্য এবং ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক নাজমুল হক। তিনি বলেন, তাঁকে ফাঁদে ফেলে ভিডিও করা হয়েছে। ওই সময় তিনি কৌশলে অনেক কথা বলেছেন। টাকা নেওয়ার অভিযোগও ষড়যন্ত্রের অংশ বলে দাবি করেন তিনি।
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আহমেদ বলেন, ‘দুই লাখ টাকা নেওয়ার বিষয়ে কিছুদিন আগে একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল বলে আমি জানতে পেরেছি। তখন টাকা ফেরত দেওয়ার জন্যও বলা হয়েছিল। বর্তমানে ভাইরাল ভিডিও ও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষককে সাত কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমান বলেন, ‘ভাইরাল ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিয়েছি।’
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব নুরুল হক নয়ন
✆ ০৯৬৩৮-৯০৭৬৩৬। ই মেইল: thedailydrishyapat@gmail.com
।
Copyright 2025 Pratidinerdrishyapat