দৃশ্যপট ডেস্কঃ
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আবু জাফরের সঙ্গে এক চিকিৎসকের তর্কাতর্কির ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই ওই চিকিৎসক ধনদেব বর্মণকে ক্যাজুয়ালটি ইনচার্জের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়।
ধনদেব বর্মণের অভিযোগ, ডিজি অপারেশন থিয়েটারে ঢুকেই টেবিল দেখে প্রশ্ন করেন এবং তার নাম জানতে চাওয়ার সময় ‘তাচ্ছিল্যপূর্ণ’ দৃষ্টি প্রদর্শন করেন। পরপর তিনবার একইভাবে নাম জিজ্ঞেস করায় তিনি অসম্মানিতবোধ করেন।
একই সঙ্গে তিনি স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম, নিজেদের বঞ্চিত হওয়া ও চিকিৎসকদের হয়রানির নানা অভিযোগ তুলেছেন।
এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য মহাপরিচালকের সঙ্গে কয়েক দফা চেষ্টা করেও কথা বলা যায়নি। ডিজির নম্বরে ফোন সেটি তার ব্যক্তিগত সহকারী রিসিভ করলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চিকিৎসকরা খুবই ক্ষুব্ধ।
তাদের অভিযোগ, চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের সুযোগ পেতেও চিকিৎসকদেরই কিছু রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাদের কাছে ধর্ণা দিতে হয়। অনেক সময় এসব সুযোগের বিনিময়ে অর্থও দিতে হয়। এছাড়া অনেক চিকিৎসক এক যুগেও একটি প্রমোশন পাননি এমন ঘটনাও অনেক।
যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা রয়েছে বলে মনে করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক বেনজির আহমেদ।
তিনি বলেন, ধরাধরি করে টাকা পয়সা দিয়ে প্রমোশন নেওয়ার অভিযোগ এখানে অনেক পুরনো। প্রভাবশালীদের টাকা পয়সা দিয়ে ট্রেনিং করতে যেতে হয়। লোক ধরতে হয় পরীক্ষা বা প্রশিক্ষণের জন্য। অনেক যন্ত্রপাতি কেনা হয় কিন্তু সেগুলো ফেলে রাখা হয়।
তার অভিযোগ, স্বাস্থ্য বিভাগ নিজেই সরকারি চিকিৎসকদের ওউন করে না বলে সবকিছু তাদের নিজেকেই করতে হয়। ফলে চিকিৎসকদের মধ্যে বঞ্চনা আছে, যা ক্ষোভ ও অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে।
তার মতে, ডিজির সাথে চিকিৎসকের বাহাসের ঘটনাটি আকস্মিক ঘটনা হলেও এটিই আসলে দেশের স্বাস্থ্য খাতের মূল চিত্র।
বেনজির আহমেদ বলেন, ‘ওনি একজন সিনিয়র চিকিৎসক। তাই হয়তো প্রতিবাদ করেছেন। কিন্তু এই খাতে অব্যবস্থাপনার সংকট ভয়াবহ। স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে মাঠ পর্যায়ে যারা কাজ করেন তাদের তো কোনো প্রমোশনই হয় না।’
অধিদপ্তরের সাবেক এই পরিচালকের মতে, মানবসম্পদ, ঔষধ ও যন্ত্রপাতি নিয়ে ব্যবস্থাপনার সংকট চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সূত্র : কালবেলা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব নুরুল হক নয়ন
✆ ০৯৬৩৮-৯০৭৬৩৬। ই মেইল: thedailydrishyapat@gmail.com
।
Copyright 2025 Pratidinerdrishyapat